‘হামলা আমার ক্যাম্পাসে, বিচার চাইবো কোনখানে?’


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-07-16 12:42:54 BdST | Updated: 2018-08-17 23:09:40 BdST

সহপাঠীর হাত ধরার অপরাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় মানববন্ধন করেছেন বিভাগটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ওই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। আমরা ভিসি স্যারের কাছে গিয়েছিলাম তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবেন। আমরা তার প্রমাণ দেখতে চাই।’

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ থেকে বাকি জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসে নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

এসব দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

কোন কর্তৃত্ববলে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র দেখতে চায়? এই সাহস তাদের কে দিল? সেই প্রশ্নও রাখেন বিভাগের সাধারন শিক্ষার্থীরা।

এসময় অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুজ্জামান, অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ বিভাগের অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করেন শিক্ষার্থীরা। এগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার ভাই বোনের ওপর হামলা কেন?’, ‘আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘হামলা আমার ক্যাম্পাসে, বিচার চাইবো কোনখানে’ ইত্যাদি শ্লোগান।

মানববন্ধনে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ ও রোকেয়া গাজী লিনাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, অন্যায়ভাবে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা ট্রমায় ভুগছেন উল্লেখ করে আসাদ ও লিনা বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে আমাদের ওপর কেন হামলা করা হলো শুধু এটুকুর জবাব চাই।’

মারধর করার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বনী সারাবাংলা’কে জানান, বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন- সিফাত উল্লাহ সিফাত, আলে ইমরান পলাশ ও মাহমুদুর রহমান। তারা তিন জনই সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পলাশ হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যনিবাহী সদস্য। বাকি দু’জন ছাত্রলীগকর্মী।

এদের মধ্যে সিফাত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, আলে ইমরান পলাশ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও মাহমুদুর রহমান আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের অধীনে ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদার ল্যাঙুয়েজেস বিভাগের শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দুই সহপাঠী আসাদুজ্জামান ও লীনা প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। পরিচয়পত্র দেখালেও তাদের মারধর করেন ওই শিক্ষার্থীরা।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।