রাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ


টাইমস ডেস্ক
Published: 2019-11-05 22:12:02 BdST | Updated: 2019-11-21 15:28:27 BdST

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পালিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেই অবরোধে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এক শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন চারুকলা অনুষদের এমফিলের ছাত্র আবদুল মজিদ এবং আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাজহারুল ইসলাম। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বিন আফতাব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক বলেন, আজ বিকেলে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তাঁরা রাস্তায় গাড়ি চলাচলে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আন্দোলনকারী রাস্তার পাশে পড়ে গেলে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাঁরা কর্মসূচি পালন করেন। আজ বিকেল পাঁচটায় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষকও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর তাঁরা প্রধান ফটকের সামনের রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করতে যান। রাস্তা অবরোধ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। শুধু ১০ মিনিটের জন্য দাঁড়ানোর কথা বললেও পুলিশ তাঁদের লাথি ও কিল-ঘুষি মারে। এ সময় সেখান থেকে এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে আমাদের ওপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর হামলা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত মনে হয়েছে। এই ঘটনার সমস্ত দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। আমি ঘটনা শুনে সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। কাউকে আটকের খবরও পাইনি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

তবে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই বরং পুলিশের ওপর মারমুখী ছিলেন। তাঁরা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক শিক্ষার্থীসহ বাকিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেডএস/ ০৫ নভেম্বর ২০১৯