জালিয়াতি করা থিসিস প্রত্যাহার করলেন শিক্ষিকা


রাবি টাইমস
Published: 2017-08-25 11:09:57 BdST | Updated: 2017-12-12 16:31:38 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গ্রাফিক ডিজাইন, কারু শিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজাদী পারভিন তার পিএইচডি থিসিস পেপার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২০১৫ সালে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর থিসিস জালিয়াতি করে পিএইচডি করার অভিযোগ উঠলে ওই শিক্ষিকা থিসিস প্রতাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আবেদন করেন।

পরে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গত ২২ আগস্ট অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার আবেদন গ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

চারুকলা অনুষদ ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের অক্টোবরে ‘বাংলাদেশের কারুশিল্প : একটি নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে পিএইচডি থিসিসি অনুমোদন পান গ্রাফিক ডিজাইন, কারু শিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। তার থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক বিলকিস বেগম।

মোহাম্মদ আলীর ডিগ্রি গ্রহণের তিন বছর পর গত ২০১২ সালের জুলাইয়ে তার শিক্ষক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজাদী পারভিনের ‘বাংলাদেশের কারুশিল্প : ঐতিহ্য ও আধুনিকতা’ শিরোনামে অপর পিএইচডি থিসিস অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে চারুকলা অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক আজাদী পারভিনের থিসিস জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন।

ছাত্রের পিএইচডি থিসিস চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার বিষয়টি একাধিক শিক্ষকের মধ্যে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে চারুকলা অনুষদে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আজাদী পারভিন নিজেই তার পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন।

সহযোগী অধ্যাপক আজাদী পারভিন বলেন, আমার থিসিসের সঙ্গে কারো থিসিসের মিল আছে সেটা আমি আগে জানতাম না। তবে জানার পরপরই আমি প্রশাসনের কাছে থিসিস প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। পরে প্রশাসন সেই আবেদন গ্রহণ করে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার ফারুক বলেন, আমরা তদন্তে থিসিস জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। আজাদী পারভিনের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি থিসিস প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করায় তার আবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, অভিযোগটি ওঠার পরপরই আজাদী পারভিন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি সে সময়ে স্ট্রোক করেছিলেন। এখনও তিনি মারাত্মক অসুস্থ। তাই তার প্রতি মানবিক বিবেচনায় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল শুধু থিসিস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টিআই/ ২৫ আগস্ট ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।