মাদক সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন প্রতিবেদনে তোলপাড় রাবি


টাইমস ডেস্ক
Published: 2017-12-03 11:35:30 BdST | Updated: 2017-12-12 16:30:54 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা বলছেন, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। অবশ্য, গোপন নথির কোন তথ্য জানেনা বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দু'টির কর্তৃপক্ষ। আর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক অধিশাখা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক, ৮ কর্মচারী, ১১ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, ছাত্রদলের সাবেক ৩ নেতা ও ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও ব্যবসায় জড়িত থাকার গোপন প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

একই অভিযোগ আনা হয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, ২ ছাত্রী ও ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দু'টির ক্যাম্পাসে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্র নেতারা বলছেন, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ছাত্র নেতার একজন বলেন 'স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি এটা একটা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রতিবেদন এবং বড়ধরণের একটি ষড়যন্ত্র।'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, 'আমাদের সংগঠনে ব্যক্তিগতভাবে তাদের আমি চিনি। তারা এগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না। এটা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'

প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ অধ্যাপক হাছানাত আলী বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র সহযোগী অধ্যাপক আবুল হাছানাত বলে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এই নামে কোনো শিক্ষক কখনও আইবিএতে কর্মরত ছিলনা। এখনও কর্মরত নেই। পাশাপাশি এমনও শিক্ষার্থীর নাম এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে খুঁজেই পাওয়া যায়না।'

রাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সহযোগী অধ্যাপক মুসতাক আহম্মেদ বলেন, 'মানসম্মান নিয়ে যারা শিক্ষকতা করছে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার একটা বৃহৎ পরিকল্পনা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করে দেয়ার একটা পরিকল্পনা।'

অবশ্য, গোপন নথির বিষয়ে কোন তথ্য প্রশাসনের কাছে আসেনি বলে জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রফিকুল আলম বেগ। তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিবেদনে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষকসহ ৪৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: সময় টিভি।

টিআই/ ০৩ নভেম্বর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।