রাবির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় আবার পরিবর্তন


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-12-31 15:22:10 BdST | Updated: 2018-06-22 13:45:09 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় আবার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালায় আবেদন যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট সিজিপিএ কমানো হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৭৫ তম সভায় নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানউদ্দিনের আমলে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। সেখানে প্রতিটি বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকা আবশ্যক করা হয়। এ নিয়ে গত দুই বছরে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় দুই বার পরিবর্তন আনা হলো।

অধ্যাপক তাজুল ইসলাম জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ অনুযায়ী, কলা, চারুকলা ও ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজে (আইবিএস) প্রভাষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ-৩ দশমিক শূন্য থাকতে হবে নিয়োগ প্রত্যাশীদের।

ক্যাটাগরি-২ এ সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যাবসায় শিক্ষা, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ক্ষেত্রে পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ-৩ দশমিক ২৫ থাকতে হবে। এছাড়া ক্যাটাগরি-৩ অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা হয় এমন অনুষদগুলো যেমন বিজ্ঞান, জীব ও ভূবিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল অনুষদগুলোতে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে।

এছাড়া মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ন্যূনতম যোগ্যতার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কে বি এম মাহবুবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ন্যূনতম জিপিএ পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে তারাই শিক্ষক হওয়ার আবেদন করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবছর ২০১২, ১৩, ১৪, ১৫ সালে মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০১৬ ও ১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ মোট জিপিএ ৭.০০; বাণিজ্য শাখা থেকে মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৫০সহ মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ এবং বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৫০সহ মোট জিপিএ ৮.০০ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছেন।

তবে এর আগে ২০১৫ সালের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তিত নীতিমালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৫০ থাকা আবশ্যক করা হয়।

অন্যদিকে সিন্ডিকেট সভা থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকদের দু’গ্রুপের মধ্যে গত কয়েকমাস ধরে চলমান দ্বন্দ্বের এ পর্যায়ে সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে হচ্ছে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামানকে। পদত্যাগের বিষয়ে অধ্যাপক নাসিমাকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান অনুরোধ জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয় একই সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কে বি এম মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসজে/ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।