রাবিতে ৩৬ বিদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন


রাবি টাইমস
Published: 2018-01-24 07:04:58 BdST | Updated: 2018-11-22 17:43:56 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য ৩৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। গত শিক্ষাবর্ষের চেয়ে এবার দুটি আবেদন বেশি পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে কূটনৈতিক জটিলতা নিরসন, ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করা, টিউশন ফি হ্রাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা রাবিতে পড়তে আগ্রহী হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখা সূত্রে জানা যায়, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য নেপাল, সোমালিয়া ও জর্ডানের মোট ৩৬ বিদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে আবেদনকারী ২০ জন ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনকারী ১৬ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৩১ জনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছেন ১৭ জন ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১৪ জন।

একাডেমিক শাখা সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন নেপালের ও ১ জন জর্ডানের শিক্ষার্থী। নেপালের ১৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগে ১৩ জন এবং এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সেটেনশন বিভাগ, ফার্মাসি বিভাগ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১ জন করে মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়াও জর্ডানের এক শিক্ষার্থী তড়িৎ ও তাড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে ভর্তিতে মনোনয়ন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগে ১ জন নেপালের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চলতি শিক্ষাবর্ষ ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১৪ জনই সোমালিয়ার শিক্ষাথী।

অপরদিকে, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে গণিত বিভাগে ২ জন, রসায়ন বিভাগ ও ফিন্যান্স বিভাগে ১ জন করে শিক্ষার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। বিভাগগুলোতে একাডেমিক জটিলতার কারণে গত শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এ বছর ভর্তি করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২৯ জনকে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার প্রধান উপ-রেজিস্ট্রার এএইচএম আসলাম হোসেন জানান, মনোনয়ন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) পেতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী এনওসি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিলেই তার ভর্তি চূড়ান্ত করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকার পরও কূটনৈতিক জটিলতাসহ নানা কারণে তারা ভর্তিতে সমস্যায় পড়তেন। এ সকল জটিলতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে সমাধান করা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধার উন্নতি সাধন করা হয়েছে। ছাত্রদের থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ূম আন্তর্জাতিক ডরমিটরি বর্ধিত করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীদের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে আলাদা উইং করা হয়েছে। আবাসন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

টিআই/ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।