হাবিপ্রবিতে ভিসা জটিলতা ও আবাসিক সংকটে বিদেশি শিক্ষার্থীরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-01-15 16:50:55 BdST | Updated: 2018-06-22 23:11:46 BdST

বিদেশি ছাত্রদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। ফলে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানে দুই শতাধিক বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই কোন সেশনজট। সবুজ শ্যামল দৃষ্টিনন্দন কোলাহলমুক্ত ও নিরিবিলী ক্যাম্পাস তাদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে হাবিপ্রবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা ও আবাসিক সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

সোমালিয়া থেকে আসা ডিভিএম-এর ছাত্র নুর আব্দুল্লাহি আদ্দাও জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছি কারণ, আমার মা একজন ভেটেরিনারিয়ান। তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে বিভিন্ন কনফারেন্সে এসেছেন। তার অনেক বন্ধু-বান্ধব রয়েছে। মায়ের পছন্দেই বাংলাদেশে ভেটেরিনারি পড়তে আসি। আর এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্কলারশিপ দিয়ে অনেক সুযোগও প্রদান করেছে।

বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ভুটান থেকে আসা ইউগেন জানায়, বাংলাদেশের মানুষ অনেক আন্তরিক এবং ভালো, আমার বন্ধুরা অনেক হেল্প করে, এখন আমি বাংলা বলতে পারি, তাই এখানে চলতে আমার কোন সমস্যা হয় না। অল্প কিছু সমস্যা বাদে এখানে সব কিছু আমাদের জন্য ভালো।

নেপাল থেকে আর্কিটেকচার-এ পড়তে আসা শিক্ষার্থী নিতি লামেক জানায়, আমাদের কিছু সমস্যা হয় এখানে, তার মধ্যে অন্যতম ইন্টারন্যাশনাল হল নেই। আর আমরা ভিসা সময় মতো পাই না। প্রথমে এক বছরের জন্য ভিসা পাই। পরে ভিসা বাড়ানোর সময় সহযোগিতা পাই না, তখন সময় কালক্ষেপন হয়। পড়াশুনা ভালো হয়, তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার পছন্দ।

নেপাল থেকে আসা ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যায়নরত ভরতি ইয়াদব জানায়, এ অঞ্চলের আবহাওয়া, শিক্ষার মান ভাল তাই এখানে আমি পড়তে এসেছি।

ডিভিএম বিভাগের ২য় বর্ষের অধ্যায়নরত মুকেশ ইয়াদব ও অঙ্কিত ঠাকুর বলেন, নেপালের মহতারী জেলায় আমাদের বাড়ি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেপালের ১৩০জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। ভর্তির পর প্রথমবর্ষ একটু সমস্যা হলেও পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় তা কেটে যায়। প্রথম দিকে ক্লাসে বাংলায় টিচিং হলে সমস্যা হয়। তবে প্রথম বর্ষে থাকতেই আমরাও কিছু কিছু বাংলা শিখে নিয়েছি।

ভিসা জটিলতা ও আবাসিক সংকট প্রসঙ্গে হাবিপ্রবি’র রেজিস্টার প্রফেসর ডক্টর সফিউল আলম জানান, ভিসার প্রক্রিয়াটা দুতাবাস করে। আমাদের যেটুকু সহযোগিতার দরকার সেটাই করে থাকি। আর আবাসিক সংকট দুর করতে শিগগিরই নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এখন একটি ছাত্রাবাসের একটি উইং-এ তাদের আবাসিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পশ্চিমে ৮০ একর জায়গার উপর অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(হাবিপ্রবি)। দিনাজপুরের কৃতি সন্তান, ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নামে এটির নামকরণ করা হয়। দিনাজপুর-রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বাশেরহাট নামকস্থানে সুরম্য অট্টালিকা ও বহু প্রজাতির সবুজ বৃক্ষ ঘেরা এই দৃষ্টি নন্দন ক্যাম্পাসটি অবস্থিত।

একটি মাত্র অনুষদ (এগ্রিকালচার অনুষদ) নিয়ে ২০০০ সালে বি.এসসি এজি (অনার্স) প্রোগ্রামে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ১২ হাজারের অধিক। এর মধ্যে ২০০ জন বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আইএম/ ১৫ জানুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।