এলো খুশির ঈদ


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-06-26 04:56:03 BdST | Updated: 2018-05-25 01:32:11 BdST

আজ সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, রোববার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে। তাই সোমবার সারা দেশে ঈদ উদ্‌যাপন করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দেশবাসী মেতেছেন ঈদের আনন্দে। সরকারি ঘোষণার পাশাপাশি টিভি-বেতারে বাজতে শুরু করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কালজয়ী সেই গানের সুর ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ...’। পাড়া-মহল্লার মসজিদ থেকে ভেসে আসছে ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনি।

আকাশে চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পটকার শব্দ শোনা গেছে। রাতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় সেই শব্দ শোনা গেছে। জনস্রোতের রাজধানী তার চিরপরিচিত চেহারাটি হারিয়েছে বটে। অনেকেই এ শহর ছেড়ে চলে গেছে। তাতে উৎসবের আমেজ নষ্ট হয়নি এতটুকুও। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে উচ্ছ্বাস, কিছুটা বেপরোয়া বাইকে উচ্ছ্বসিত তরুণদের হর্ষধ্বনি, বিপণি বিতানে শেষ মুহূর্তের ভিড়, সদরঘাট বা টার্মিনালে মানুষের ছোটাছুটি, আর মনোহরা দোকানগুলিতে সওদাপাতির জন্য ক্রেতার জট—এ সবই উৎসবের জানান দিচ্ছে।

ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ-নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এদিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, উদ্ভাসিত হয় ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয়।

চাঁদ দেখার পর ঘরে ঘরে উপাদেয় খাবারের আয়োজনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকছে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও-কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবেন না রোগী, বন্দী বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও।

হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দীদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও থাকবে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। খবর বাসসের।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কূপমণ্ডুকতার কোনো স্থান নেই।

আবদুল হামিদ বলেন, ইসলাম মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরমত সহিষ্ণুতা, সাম্য, মৈত্রীসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইসলামের মর্মার্থ ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য মানবতার মুক্তির দিশারি হিসেবে দিকে-দিকে ছড়িয়ে পড়ুক- এ প্রত্যাশা করি।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, পবিত্র রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে সমাগত হয় শাওয়ালের নতুন চাঁদ, পবিত্র ঈদুউল ফিতর। ঈদ মুসলমানদের জন্য এক আনন্দঘন দিন। এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, সারা বাংলায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সকল মানুষের সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক- আজকের দিনে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এই প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

তিনি বলেন, আগামী দিনগুলো সত্য ও সুন্দর হোক। হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যাপ্তি লাভ করুক- এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে ঈদ মোবারক জানিয়ে বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সকলের জন্য আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পবিত্র এ দিনে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করছি।

জেএস/ ২৬ জুন ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।