‘শাটলে’ নেই পর্যাপ্ত বগির ব্যাবস্থা

ঝুঁকিতে চবি শিক্ষার্থীরা, কর্তৃপক্ষ নীরব


গাজী সাইফুল// চট্টগ্রাম:
Published: 2017-03-05 19:05:19 BdST | Updated: 2018-02-18 07:17:09 BdST

ডেইলিমেইলবিডি ডট কম:
চট্টগ্রাম: বর্তমান কিংবা প্রাক্তন ‘শাটল’ বলতেই যেন পুরনো প্রাণ ও ছন্দে মিশে যেতে চান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্বের একমাত্র চবিতে রয়েছে এই ‘শাটল’। যেখানে মিশে আছে শত স্মৃতি আর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের বিচিত্র সব মুহূর্ত। তবে গত কয়েক বছরে লক্ষ্যনীয় ভাবে কমেছে এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ‘শাটলের’ বগির সংখ্যা। বর্তমানে তা কমে দুই ‘শাটলে’ ১০ টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

যেখানে দুটিতে থাকার কথা ছিল ২০টি বগি। কিন্তু প্রায় সময় তাতে ৮টি কিংবা তারও কম ৫টি বগি দেখা যায়। আবার পরিত্যক্ত বগিও জুড়িয়ে দেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে শাটলের ছাদে, দরজায় ঝুলন্ত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। অথচ সবকিছু দেখেও কর্তৃপক্ষ নীরব। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘শাটলে বগি দিন দিন কমছেই। অন্যদিকে প্রতিবছর ৪৩টি বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন প্রায় ৪৮১৫-২০ জন শিক্ষার্থী। এর মাঝে রয়েছে বগির সংকট। সব মিলিয়ে বেশ দূর্ভোগেই আছি বলতে হয়। মাঝে মাঝে এই বগির সংখ্যা ৫ টিতেও নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের আধিক্যের অনুপাতে বগির সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর হতে চবিতে সংযোজনের সম্ভাবনা আছে আরো নতুন ৫ টি বিভাগ। এ ছাড়াও চবিতে আরো রয়েছে ৭টি অনুষদ, ৫টি ইনস্টিটিউট ও রয়েছে ৫ টি গবেষণা কেন্দ্র। যা ক্রমেই পরিবহন সংকট তৈরী করছে।

কিছুটা হতাশার ছাপ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা তাহসিন বলেন, ‘এখনকার বগিতে প্রাণ ও ছন্দ কোনটিই নেই। অপর্যাপ্ত বগির কারণে কখনো ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকেও অস্বস্থিকর অবস্থায় যাতায়াত করতে হয় ‘শাটলে’। অনেককে জায়গা না পেয়ে ছাদে চড়ে পাড়ি দিতে হয়। আবার অনেকে দরজায় ঝুলেও যাতায়াত করে। একটু জায়গা করে নেওয়াটা এখন যেন সোনার হরিণ।’

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা শাটলকে উন্মুক্ত দেখতে চাই। পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ফিরে পেতে চাই।’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে বগিগুলো নিয়ে চলছে বর্তমান ‘শাটল’ ব্যাবস্থা তার বেশির ভাগ চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে বহু আগেই। এছাড়া ‘শাটলের’ ইঞ্জিনটিও বেশ পুরনো হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে রেলত্তয়ে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত বগির সংযোজন করলেও ‘শাটল’ তার কর্মক্ষমতা হারায় অনেকাংশেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ‘শাটলে’ যাতায়াতে ভীড় করেন অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া আরো যাতায়াতে রয়েছে ১৭৫৪ একরের প্রকৃতি প্রেমী কিছু পর্যটকও। দীর্ঘ দিন থেকে বগি সংযোজনের দাবি করা হলেও কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দিন দিন চরম হচ্ছে।

এছাড়া বগি ভিত্তিক রাজনীতি, নোংরা ও দুর্গন্ধ যুক্ত পরিবেশ, ছাড় পোকার যন্ত্রণা, পরিত্যাক্ত ও ভাঙ্গা সিট তো রয়েছেই দূর্ভোগের আরেক হাতিয়ার হিসেবে। রাতে শাটলেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে হয়।
 
শিক্ষার্থীদের এসকল দূর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধূরী ডেইলিমেইলকে বলেন, ‘বগি স্বল্পতার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায় অভিযোগ করে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হতে রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে প্রায় অবহিত করি। মাঝে মাঝে তারা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত বগির সংযোজন করে। তবে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার সংখ্যা প্রায় সময় কমিয়ে ফেলা হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মকতাকে মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করলেও তারা কেউ ফোন তোলেননি।








Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।