ইফতার পার্টিতে সক্রিয় ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপগুলো


ঢাকা
Published: 2019-05-29 01:56:05 BdST | Updated: 2019-08-19 02:02:16 BdST

ইফতার পার্টি মানে সারাদিন রোজা রাখার পর পেটভরে শুধু খাওয়া দাওয়া নয়, এর সঙ্গে এখন জড়িয়ে গেছে গেট টুগেদারের বিষয়টিও। আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার পার্টির আধিক্য চোখে পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। এখন ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপগুলোর আয়োজনেও চলছে ইফতার পার্টি৷

এ ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপগুলো হতে পারে বন্ধুদের, চেনা মানুষদের আবার অচেনা মানুষদের চেনার দারুন সুযোগও। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপে সক্রিয় থেকেছেন, কিন্তু বাস্তবে দেখা হয় নি, এমন বন্ধুরা সব অনলাইনের পাতা ছেড়ে বাস্তবের পাতায় দেখা করছেন ইফতার পার্টির মাধ্যমে।

এসএসসি ৯৮ এবং এইচএসসি ২০০০ নামে একটি ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপের কথাই ধরা যাক। নাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে এখন থেকে ২১ বছর আগে যারা স্কুল আর ১৯ বছর আগে যারা কলেজের গন্ডি ছেড়েছেন, তাদের গ্রুপ এটা৷ সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এ গ্রুপের সদস্যরা৷ স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে অনেকে আলো ছড়াচ্ছেন৷ এর মধ্যেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ সদস্য একে অন্যকে চিনে না৷ দেখা হয় নি একজনের সাথে অন্য জনের৷ তারা এবার ৩১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারস ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজন করেছে ইফতার পার্টির। ১১০টিরও বেশি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিচ্ছে। জম্পেস আড্ডা, আর নতুন পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে উদগ্রীব হয়ে আছে এ গ্রুপের সদস্যরা।

গ্রুপে নিয়মিত পোস্ট কমেন্ট করে যাওয়া শাকিল আহমেদ জানান, "এতদিন যাদের সাথে অনলাইনে বন্ধুত্বের কথা চালাচালি হয়েছে, এবার বাস্তবে তাদের দেখবো। দেড় যুগের বেশি আগে হঠাৎ ফেলে আসা স্কুল কলেজ জীবন যেন আমাদের কাছে এখন রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে এ ইফতার পার্টির মাধ্যমে। "

ইফতার পার্টির অন্যতম আয়োজন ফারুক উজ জামান জানান, "শুরুতে খুব অল্প কয়েকজন বন্ধু মিলে যখন পরিকল্পনাটি করছিলাম, তখন ভাবতেও পারিনি এত সাড়া পাবো। আমাদের রেজিস্ট্রেশনের কোটা মাত্র একদিনে টার্গেট ফিলআপ হয়ে যায়। এখন গ্রুপের অনেকেই ফোন করছে, বিকাশে টাকা পাঠাতে চাইছে, কিন্তু সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না"। অন্যতম আয়োজক সাবরিনা নওরিন লিমু বলেন, "সামনের বছর আরও বড় আয়োজনে সব বন্ধুদের নিয়ে ইফতার পার্টি আয়োজনের কথা ভাবছি আমরা।"

গ্রুপের সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, "সুনামগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আমি। ডুয়েটে পড়েছি। কিন্তু সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের ব্যাচের হাজারো শিক্ষার্থী আছে, যাদের সঙ্গে কোনদিন কথা হয়নি, দেখা হয়নি, তাদের সবাইকে তুই তুই করে সম্বোধন করছি, গল্প করছি স্মৃতি রোমন্থন করছি, এটা সত্যি দারুন এক ব্যাপার। "

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ফজলুল হক রাসেল বলেন, "আমাদের মধ্যে অনেকে আবার পেশাগত জীবনে পরিচিত। কিন্তু আমরা যে এক ব্যাচে পড়াশুনা করেছি, তা কোনদিন জানতামই এ গ্রুপে না এলে। বড় ভাই বলে যাদের এতদিন সম্মান করেছি, এখন দেখা যাচ্ছে তারা সব আমাদের বন্ধু। তবে শুধু বন্ধুত্বা নয়, আপনি যেহেতু জানেন, আপনার বন্ধুরা কে কোথায় আছেন, জীবনের নানা প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আপনি সহযোগিতাও নিতে পারছেন এখন৷ "

এরকম ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপগুলো এখন আর শুধু ইফতার পার্টি নয়, সামাজিক নানা আয়োজনেও শরীক হচ্ছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।