গেমসে আসক্ত হলে কী করবেন?


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-09-25 14:10:38 BdST | Updated: 2020-10-24 14:54:25 BdST

কম্পিউটার গেমস কে না ভালোবাসে৷ কিন্তু কারো কারো কাছে এটি এমন নেশার মতো হয়ে যায় যে, জীবনের বাকি সবকিছু অর্থহীন হয়ে পড়ে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর গেমসে আসক্তি৷ আর এ থেকে বের হতে হলে চিকিৎসা করাতে হবে৷

বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার গেমস একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে৷ বড় হচ্ছে এর বাজারও৷ পুরো বিশ্বে এখন গেমারের সংখ্যা প্রায় একশ' বিশ কোটি৷ যেমন, কোলনের গেমসকম নামের এক মেলাতেই গতবার দেখা গেছে আগের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বেড়েছে৷ সেইসঙ্গে বেড়েছে সুযোগ ও আগ্রহের পরিধিও৷

এই গেমারদের বেশিরভাগই শিশু ও টিনএজার৷ গড়ে সপ্তাহে তিনদিনেরও বেশি তারা কম্পিউটার গেমস খেলেন৷ গেমিং তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ৷ কিন্তু এই যে কমবয়সীদের গেমের প্রতি এতটা আগ্রহ, তার কোনো সীমা আছে কি?

বাভেরিয়া রাজ্যের একটি সাইকোসোমাটিক ক্লিনিকে কম্পিউটার গেমে আসক্তদের চিকিৎসা করা হয়৷ ডক্টর বেয়ার্ট টে ভিল্ডট এ নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ এই আসক্তিকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অসুখ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷

‘‘কম্পিউটার গেমের প্রতি প্রবল আকর্ষণ একটি আসক্তিমূলক আচরণ, এর অর্থ দিনকে দিন আরো বেশি গেম খেলতে মন চাইবে,'' বলেন প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ড. বেয়ার্ট টে ভিল্ডট৷ ‘‘খেলতে না পারলে নানান রকমের মানসিক সমস্যা, যেমন নিয়ন্ত্রণ হারানো, মিথ্যা বলা বা ধোকা দেয়ার মতো অনুসঙ্গ দেখা দিতে পারে৷ সব ধরনের আসক্তিই এমন প্রভাব ফেলে৷ তখন জীবনের অন্তত একটি দিক খুব বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷''

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ তিনিও একটা সময় কম্পিউটার গেমসে খুব আসক্ত হয়ে পড়েন৷ এতে করে তার নতুন বন্ধু হয়, একেবারে নতুন সার্কেল৷ স্কুলের পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

‘‘আমি কোনোমতে স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নিতাম৷ একেবারেই ভালো ছিলাম না৷ বাড়ির কাজ করতাম না, পড়াশোনা করতাম না, শুধু খেলতাম৷ একটা সময় বুঝতে পারলাম যে আমি আসলে আসক্ত৷ এটি ছাড়া আমার চলে না৷ কমবেশি আমি একে জোর করে তাড়িয়েছি,'' বলেন তিনি৷

চিকিৎসকরা বলেন, উইথড্রয়াল বা নেতিবাচক আচরণগুলোকেই শুধু নয়, এর বাইরে যেসব ব্যক্তিগত বিষয় আসক্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসার প্রয়োজন আছে৷

চিকিৎসারত তরুণ বলেন, ‘‘আমি সে সময়টায় খুব একা ছিলাম৷ এমন সময় এই শখটা আসক্তিতে পরিণত হয়৷ একাকীত্ব ভূলতে এর উপর ভর করি আমি৷''

ক্লিনিকের চিকিৎসক ড. জুলিয়ান লাউফার জানান, প্রায়ই বিষণ্ণতার মতো অন্য মানসিক রোগগুলোও যুক্ত হয় এর সঙ্গে৷ আসক্তির পেশাদার চিকিৎসা দরকার৷ থেরাপি তখনই সফল হয়, যখন রোগী তা নিতে সম্মত হন এবং সক্রিয়ভাবে এতে অংশ নেন৷

‘‘আপনারা দেখছেন এখানে আমাদের সবরকমের ডিভাইস আছে৷ এর কারণ চিকিৎসার অংশ হিসেবে রোগীদের অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলতে হয়৷ আর এটি এমন একটি বিষয়, যার জন্য তাকে আবেগগতভাবে প্রস্তুত করতে হবে৷ অধিকাংশ গেমাররা এরই মধ্যে এসব খেলায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার ঘন্টা বিনিয়োগ করেছেন৷ তাই এদের এ জায়গা থেকে সরিয়ে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা খুবই সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেমন ভয় বা রাগ থেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত৷ তাই একে হালকা ভাবে নেয়া যাবে না৷ তবে গেমার যদি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা এই চিকিৎসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,'' বলেন তিনি৷

এই চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো গেমসের সঙ্গে রোগীর জোরালো সংযোগ ঢিলে করে দেয়া৷ গবেষণায় দেখা গেছে, থেরাপির ফলে আবারো আসক্তি তৈরির আশঙ্কা কমে যায়৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে।