শুধু স্যাটেলাইট নয়, মহাকাশে আছে আবর্জনাও


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-05-13 10:30:57 BdST | Updated: 2018-08-21 08:25:44 BdST

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মহাকাশের বুকে স্থান নিয়েছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মহাকাশ জয়যাত্রার সূচনা হলো। বাংলাদেশের এই জয়যাত্রার খবর এখন সবার মুখে মুখে।

মহাকাশ আর স্যাটেলাইট নিয়ে মানুষের আগ্রহের পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের ঘটনা।

মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর শুরুটা হয় ১৯৫৭ সালের অক্টোবরের ৪ তারিখ। সেদিন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ কে মহাকাশে পাঠিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সঙ্গে পাঠিয়েছিল কুকুর ‘লাইকা’কে।

কিন্তু এরপর মাত্র তিন মাস থাকতে পেরেছিল স্পুটনিক-১। শেষে পুড়ে গিয়ে পতিত হয় ভূ-পৃষ্ঠেই। মৃত্যু হয় লাইকারও।

তবে এরপর স্পুটনিক-২ পাঠায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এরপর একাধারে বহু উপগ্রহ পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরো উন্নত উপগ্রহ তৈরি করতে শিখেছে মানুষ।

মহাকাশে এই পর্যন্ত জীবন্ত কৃত্রিম উপগ্রহ পাওয়া গেছে আনুমানিক এক হাজার ৭১টি। উপগ্রহগুলোকে দেখলে মনে হবে, এগুলো স্থির। কিন্তু না, পৃথিবী যেমন সূর্যকে আবর্তন করে ঘুরছে, তেমনি পৃথিবীকে আবর্তন করে ঘুরছে এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলোও।

মজার ব্যাপার হলো, এই পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ উপগ্রহই পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

উপগ্রহগুলো মহাকাশের মূলত তিনটি স্তরে স্থাপন করা হয়। যেমন, লো-আর্থ-অরবিট, মিডল-আর্থ-অরবিট এবং হাই-আর্থ-অরবিট।

লো-আর্থ-অরবিট, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশ কিলোমিটার উপরে। সাধারণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য মহাকাশের এই স্তরটি ব্যবহার করা হয়।

আরো উপরে যে স্তরটি রয়েছে তা হলো মিডল-আর্থ-অরবিট। এই স্তরটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ হাজার কিলোমিটার উপরে। এই স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় কাজের উপগ্রহগুলো স্থাপন করা হয়। যেমন, প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ব্যবহৃত উপগ্রহ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য উপগ্রহ।

কিন্তু মহাকাশে কী শুধু কৃত্রিম উপগ্রহই রয়েছে? না। মহাকাশে অনেক অনেক কৃত্রিম বস্তু ভাসছে। এর মধ্যে রয়েছে, মৃত উপগ্রহ। ফেলে দেওয়া দস্তানা, অচল হয়ে যাওয়া বুস্টার (কৃত্রিম উপগ্রহের একটা অংশ)। কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেলে এসব কৃত্রিম উপগ্রহ মৃত হয়ে পড়ে। পরে আবর্জনা হয়ে মাটিতে খসে পড়লে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে প্রায় ২১ হাজারেরও বেশি বস্তু ভাসছে, যেগুলো ১০ সেন্টিমিটারের চাইতে বড়। যেগুলোর ছোট্ট একটা অংশই জীবন্ত উপগ্রহ।

পৃথিবীর খুব কাছের যে কক্ষপথ, এর সব আবর্জনায় একেবারে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনগুলো মাঝে মাঝেই জায়গা বদল করে এই ভয়ানক আবর্জনাগুলোর প্রভাব থেকে বাঁচতে।

এই আবর্জনাগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফলে বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছেন যে, আমাদের গ্রহের চারদিকে যদি এইভাবে আবর্জনা বাড়তেই থাকে, ভবিষ্যতে আমাদের জন্যে মহাকাশ যাত্রা খুবই বিপজ্জনক হয়ে পড়বে।

আমাদেরকে হয়তো, প্রতি ঘণ্টায় ২৯ হাজার কিলোমিটার বেগে আবর্তনশীল এসব আবর্জনার মধ্যে নিজেদের বন্দি করে ফেলতে হবে।

৬০ বছর আগে স্পুটনিকের যাত্রার পরে, এই কয়েক দশকে আমরা ঠিক কতগুলো উপগ্রহ পাঠাতে পেরেছি, তা আসলেই অবাক করার বিষয়। এভাবে উপগ্রহে আর আবর্জনায় মহাকাশও এক ব্যস্ত জায়গা হয়ে উঠছে।

টিআই/ ১৩ মে ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।