টিএসসিতে এলইডি পর্দায় যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখাবে ডাকসু


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-02-09 04:31:45 BdST | Updated: 2020-07-05 20:15:26 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এলইডি পর্দায় যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল দেখাবে ডাকসু।

শনিবার ক্যাম্পাস টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবং ক্যাম্পাসে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আমরা আগামীকাল বেলা দুইটা থেকে বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখাবো।

বাংলাদেশ ও ভারত যুব দলের মধ্যকার আজ অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। পোচেফস্ট্রুমের সেনওয়াস পার্কে ম্যাচটি হবে। বাংলাদেশ সময় দুপুর দুটোয় ম্যাচটি শুরু হবে। যে দল জিতবে তারাই যুব বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের চ্যাম্পিয়ন হবে। কোন্ দলের কপালে জুটবে শিরোপা? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বাংলাদেশ যুব দলটি যে কোন সময়ের চেয়ে সেরা দল। তা তো প্রথমবার যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেই বুঝিয়ে দিয়েছে তারা। আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুব দলটি দারুণ খেলে চলেছে। যুব বিশ্বকাপে তারা নিজেদের অসাধারণভাবে মেলে ধরেছে। তাদের নিয়ে প্রশংসারও কমতি নেই। কিন্তু আজকের ম্যাচটি অন্য কোন ম্যাচের মতো নয়। ফাইনাল ম্যাচ। যে ম্যাচে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরশ। উত্তেজনার পারদ। সবচেয়ে বড় কথা স্থায়ুচাপ। এমন ম্যাচের চাপ কখনই নেননি বাংলাদেশ যুবারা। কখনই যে এত বড় মঞ্চে খেলার সৌভাগ্য হয়নি। এবার যখন প্রথমবার সেই ভাগ্য হয়েছে শিরোপা হাতে তুলে ধরেই তার শেষ করতে চান বাংলাদেশ যুব দলের ক্রিকেটাররা। তা কী খুব সহজ?

প্রতিপক্ষ দলটি ভারত। যে দলটি যুব বিশ্বকাপে ছয়বার ফাইনালে খেলেছে। এত বড় মঞ্চে খেলার অভ্যাস খুব স্বাভাবিকভাবেই আছে। এরমধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। সর্বশেষ আসরসহ সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল ভারত। দলটি যে কোন প্রতিপক্ষকেই গুঁড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশ যুব দলটি আবার ভারত যুব দলের সামনে পড়লেই খেই হারিয়ে ফেলে। এর আগেও তা দেখা গেছে। গত বছরই যেমন সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার মাটিতে হওয়া যুব এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ যুব দল। প্রতিপক্ষ থাকে ভারত যুব দল। ফাইনালে ভারতকে মাত্র ১০৬ রানে গুঁটিয়ে দিয়েও ১০১ রানে অলআউট হয়ে ৫ রানে হারের জ্বালা ভোগ করতে হয়। জয়ের এত ভাল সুযোগও কাজে লাগানো যায়নি। বাংলাদেশ শিবিরে সবসময়ই ভারত জুজু কাজ করে।

ভারতের বিরুদ্ধে যুব ক্রিকেটে ২২ ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টি ম্যাচে জিততে পারে বাংলাদেশ যুব দল। ২০০২ সালে একবার, ২০১৭ সালে একবার ও গত বছর জুলাইয়ে একবার জয় মিলে। বাকি ১৯টি ম্যাচেই হার হয়। অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে চার ম্যাচের মধ্যে ১টি ম্যাচে জেতা যায়। ২০০২ সালে জয় মিলে। ২০০০, ২০০৪ ও ২০১৮ সালের যুব বিশ্বকাপে হার হয় বাংলাদেশ যুব দলের।

ভারত যুব দলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচবার ফাইনাল ম্যাচে খেলে বাংলাদেশ যুব দল। প্রতিবারই হার হয়। ২০০৭ সালে কলম্বোতে তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে ১২৯ রানে, ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে ১৩৭ রানে, ২০১৫ সালে ভারতে তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে ২১৯ বল হাতে থাকতে ৭ উইকেটে, গত বছর ইংল্যান্ডে তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে ৮ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে এবং গত বছর কলম্বোয় যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫ রানে হারে বাংলাদেশ যুব দল। ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে হারই যেন নিয়তি। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যতদিন গড়িয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে ততই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বাংলাদেশ যুব দল। শেষ ম্যাচটিতে তো জয়ের সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তাতে যেমন কষ্ট মিলেছে, তেমনি ভারত যুব দলকে হারানো যে সম্ভব সেই আত্মবিশ্বাসও মিলেছে। এবার তো বাংলাদেশ যুব দলটি অনেক শক্তিশালী। ভারত যুব দলকে হারিয়েও দিতে পারে আজ বাংলাদেশ যুব দল। আর হারালেই তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে বাংলাদেশ যুব দল।

বাংলাদেশ যুব দলটি অবশ্য এখন পর্যন্ত সব সিরিজ, টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৬ বার ফাইনালের মঞ্চে খেলছে। ২০০৫ সালে নিজ দেশে হওয়া তিনজাতি সিরিজে শ্রীলঙ্কা যুব দলকে ফাইনালে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে বাংলাদেশ যুব দল। তখন সাকিব আল হাসান বল হাতে ৩ উইকেট ও ব্যাট হাতে ১০০ রান করে ম্যাচ জেতান। সিরিজের আরেক প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। এরপর বাংলাদেশ যুব দল আরও পাঁচবার ফাইনালে খেলে। প্রতিবারই ভারত যুব দল প্রতিপক্ষ থাকে। বাংলাদেশ যুব দল সব ম্যাচেই হারে। এবার কী হবে? তা সময়ই বলে দেবে। তবে গ্রুপপর্ব থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে দুই দলই দাপট দেখিয়েছে। দুই দলই গ্রুপপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠেছে।

আজ এক দলকে হারতে হবে। সেই দলটি কারা হবে, বাংলাদেশ না ভারত যুব দল? যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন প্রথমবারের মতো পূরণ হয়েছে বাংলাদেশ যুব দলের। যেহেতু ফাইনালে ওঠা হয়ে গেছে, চাপ না নিয়ে খেলে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ও হয়ে গেলেই হয়। দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকার সঙ্গে ইতিহাসও গড়া হয়ে যাবে। বিশ্বকাপের মতো আসরে, হোক সেটি যুব দল, ফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে। এখন বিশ্বকাপের শিরোপাটা হাতে তুলে নেয়া গেলেই হয়ে যায়।