ঘটনা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন: সঞ্জিত


Dhaka University Times
Published: 2018-10-02 22:35:48 BdST | Updated: 2018-12-10 09:27:33 BdST

ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ছাত্রলীগ নেতা সঞ্জিত চন্দ্র দাস। ভুল না বুঝে ‘অবেগ ও বিবেক’ দিয়ে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি।

সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা দুইজনের বক্তব্য এবং প্রমাণাদি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন৷ ভুল হলে শুধরে দিন, কিন্তু ভুল বুঝবেন না। একটি বার আবেগ এবং বিবেককে সামনে এনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে লিফটে ওঠা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ উঠে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে৷ আর এ ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

... 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে সঞ্জিত বলেন, ‘প্রতিটি লড়াই, আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের একজন আদর্শ কর্মী হয়ে লড়ে গিয়েছি৷ অথচ কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন। যা আমার জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। কারন আমি চাই- আপনাদের আশীর্বাদে থাকতে, আপনাদের হাসির মাঝে থাকতে। কারোর রুষ্ট হৃদয়ে নয়, কারোর ভুল ধারণায় নয়।’

রুহুল আমিনকে শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই সম্বোধন করে সঞ্জিত বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সুদীর্ঘ জীবনে কখনোই তার সাথে আমার কিঞ্চিৎ বাকবিতন্ডাও হয়নি কোনও দিন। তবে নিজের বিবেককে একটিবার জিজ্ঞেস করুন- কেন তার সাথে কোনও কারন ছাড়াই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে আমার নামটি যুক্ত হবে? হ্যাঁ, স্বীকার করছি ঘটনাটি আমাদের দুজনকে ঘিরেই হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভে কিংবা উত্তপ্ত মস্তিষ্কের বহিঃপ্রকাশ করার জন্য তার সঙ্গে আমার কোনও ঝামেলা সৃষ্টি হয়নি।’

‘একটি বার আপনারা আমার স্থানে নিজেকে বসিয়ে দেখবেন কি? আমার সাড়ে আট মাসের অন্তঃস্বত্তা বৌদিকে তিনি ধাক্কা দিয়েছিলেন। এই কথাটি শোনার পরও আমি উনাকে হামলা করার নির্দেশ দিইনি৷ উনার সাথে আটতলায় দেখা করতে যাওয়ায় তিনি এবং তার বড় ভাই আমাদের সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করলেন। কেন? আমার বা আমার পরিবারের কি অপরাধ ছিল? আমার অসুস্থ মাকে দেখতে লিফটে উঠাটা অপরাধ? লিফট ওভারলোড হলে যারা পরে উঠে তাদের কি নেমে যাওয়া উচিৎ নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার তাহলে কে করেছে একবার বলবেন কি?’

ওইদিন রাতের এ ঘটনার পর আলিয়া মাদরাসা থেকে লাঠি-চাপাতি নিয়ে ছাত্রলীগের একদল কর্মীকে ডেকে আনা হয় বলেও গণমাধ্যমে উঠে আসে। সে প্রসঙ্গে ঢাবি ছাত্রলীগ বলেন, ‘সব মেনেছি, কিন্তু আলিয়া মাদ্রাসা থেকে লাঠি-চাপাতি নিয়ে একদল ছেলেদের ডাকা হল কিসের জন্য? একবার উত্তরটি চাইব। কিন্তু তারপরও আমি একবারের জন্যও আমি আমার কোনও কর্মীকে হামলা করার নির্দেশ দেইনি। কিন্তু এই পুরো ঘটনার সাক্ষী যারা তাদেরই অনেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রুহুল ভাইয়ের উপর আক্রমন করেছে।’

‘কারন যখন একজন গর্ভবতী নারীর সাথে শুধু লিফটে উঠা নিয়ে কেউ ধাক্কাধাক্কি করে, সামান্য বাকবিতণ্ডার কারনে যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আসে সেখানে ক্রোধ ধরে রাখা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।’

এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই কে দোষী আর কে নির্দোষ সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানান এ ছাত্রনেতা, যিনি ঢাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার আগে জগন্নাথ হল শাখার সভাপতি ছিলেন।

বলেন, ‘তবুও একটি কথা বারংবার বলছি- আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখুন। আমি কখনোই হামলার ভিতর ছিলাম না। বরং আমি বার বার সেটি প্রতিহত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।’

সাবেক নেতা রুহুল আমিনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সঞ্জিত বলেন, ‘আমি চাই রুহুল ভাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। তারপর আমাদের দুজনকেই আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করুন।’

রুহুল আমিন তার (সঞ্জিত) সামনে ঘটনার বিকৃতি করবেন না বলে উল্লেখ করে এ ছাত্রনেতা আরো বলেন, ‘সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা দুইজনের বক্তব্য এবং প্রমাণাদি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন৷ আমাদের ভিতর যেন ভাঙ্গণ না আসে। আমি আপনাদের অনেকেরই অনুজ। ভুল হলে শুধরে দিন কিন্তু এই ছোট ভাইটিকে ভুল বুঝবেন না। একটি বার আবেগ এবং বিবেককে সামনে এনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।