ঢাবি উপাচার্যকে ছাত্রলীগের স্মারকলিপিঃ কী লেখা হয়েছে


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-10-23 14:07:51 BdST | Updated: 2018-11-18 00:17:58 BdST

স্মারকলিপিতে যা লিখেছে ছাত্রলীগ 

স্মারকলিপি

বরাবর,
মাননীয় উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সংকটের প্রিয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্রসমাজের প্রজ্জ্বলিত গৌরব, উচ্চকিত প্রত্যয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ-সংগ্রামে অনুরণিত, আধুনিক-মানবিক-প্রগতিশীল-ডিজিটাল-উন্নত- মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের জন্য বঙ্গুবন্ধুতনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্ন-সাহস-সম্ভাবনায় প্রতিধ্বনিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আপনাকে সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা-স্বায়ত্তশাসন-স্বাধীনতা-গণতন্ত্রের দাবিতে অসংখ্যবার মশাল জ্বালিয়েছে; প্রজন্মের ক্ষোভ, তারুণ্যের দ্রোহ, মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্ন ভাষা পেয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শাণিত শ্লোগানে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেই তরুণ মুজিব ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করেছেন; 'একুশ মানে মাথা নত না করা' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুগে যুগে এ অগ্নিবাণীই বহন করে চলেছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ছাত্রত্ব হারিয়েছিলেন পরবর্তীকালের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর নিরাপস ভূমিকাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানসবোধ, নৈতিক অঙ্গীকার গড়ে তুলেছে। বাঙালির সাহসী অভিযাত্রার অবিকল্প সারথি, যুগসন্ধিক্ষণের প্রত্যয়দীপ্ত কাণ্ডারী, একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম রাষ্ট্রনায়ক, বঙ্গবন্ধুতনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেই স্বাধীনতা আন্দোলনে হাজারো তরুণের মুষ্টিবদ্ধ হাতে মিলিয়েছিলেন হাত, কথা বলেছিলেন শ্লোগানে শ্লোগানে। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে, গণবিরোধী শত্রুর বিরুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা জনগণের আন্দোলনকে বিজয়ী করেছে অসংখ্যবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একাডেমিক অর্জন, গবেষণা খাতে অবদান, সৃজনশীল মানুষ তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ঈর্ষণীয় অবদান রেখেছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-গবেষকরাই জ্ঞানের উৎপাদন-পুনরুৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্যের সূত্র ধরেই নৈতিক অঙ্গীকার ও একাডেমিক অসাধারণত্বের উত্তরাধিকার এর শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়ে যায়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘ ইউনিট কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সার্বিক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারকে উপজীব্য করে যে ৪ দফা দাবি জানিয়েছে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের ঐতিহ্যিক দায়, প্রজন্মের প্রত্যাশার প্রতি আমাদের ইতিবাচক অবস্থান ও একাডেমিক ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

'শিক্ষাই আলো' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্মবাণী। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই উচ্চারণ করেছিলেন, "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।" প্রতিষ্ঠাকালের 'Truth shall prevail' মনোগ্রাম, সত্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা মনে করি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ও সার্বিক পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার আমাদের সামনে কিছু দায়িত্ব এনে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের এসব দাবি উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং আলাপ-আলোচনার পরিসর উন্মুক্ত করার মধ্য দিয়েই এর একটি সুষ্ঠু সুরাহা, টেকসই সমাধান ও যুগোপযোগী সংস্কার সম্ভব।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের বক্তব্য দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলের সামঞ্জস্যহীনতা, মেধাতালিকায় উত্তীর্ণদের একাংশের ফলাফলের অবাস্তবতা, পাসের হারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রশ্নপত্রের একটি বড় অংশের উত্তরপত্রসহ প্রশ্নমালা ভর্তি পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই সাংবাদিকদের মারফত প্রক্টরিয়াল কমিটির কাছে জমা দেয়া সাধারণ ভাবে শিক্ষার্থীদের মনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি আস্থাহীনতার পরিসর তৈরি করেছে। আমরা মনে করি, এ পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে একটি সার্বিক অচলাবস্থা সূচিত হতে পারে, যেটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কারোরই কাম্য নয়। এছাড়া, মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় একটি শূন্যতা তৈরি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপর পড়বে বলে আমরা মনে করি। একজন শিক্ষার্থীও অসদুপায়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অবমাননাকর, শিক্ষার্থীদের কাছে বেদনাদায়ক।

আরেকটি বিষয় আমরা জরুরি মনে করি, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে একটি আলোচনার বাতায়ন খুলে দেয়া। ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির অনেক কাঠামোগত ত্রুটির জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সমস্যার ধারাবাহিকতা ও সমস্যার নতুনত্বের অবতারণা হচ্ছে বলেও আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়া, বর্তমান ভর্তি পদ্ধতিকে যুগোপযোগী, মানসম্মত, আধুনিক করার সময় হয়েছে বলেও আমরা মনে করি। আমাদের এমন ভর্তি পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে যার মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চ মেধাবীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনূকুল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে পারি, যে ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্ভাবনাময় তারুণ্যের পীঠস্থানে পরিণত করতে পারে, যে ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীদের উপহার দিতে পারে যারা বিশ্বের যে কোন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

উপর্যুক্ত পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিম্নলিখিত ৪ দফা দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে, তাদের আবেগ-অনুভূতির সারস্বতঃ হিসেবে, বর্তমান সমস্যার প্রতিবিধানকল্পে উপস্থাপন করছে। আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রয়াসই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের প্রত্যাশিত গবেষণা- বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি আধুনিক, মানসম্মত বিদ্যাপীঠ, উচ্চশিক্ষার সৃজনশীল বিকাশের আকাঙ্ক্ষিত কেন্দ্র।

১। যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া অথবা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসা। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নফাঁস বা ডিজিটাল জালিয়াতি বা অসদুপায়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট সখ্যাতাত্ত্বিক ধারণায় আসা বহুলাংশে জটিল, অপরদিকে অনেক শিক্ষার্থী অসৎ উপায়ে ভর্তি হয়েছে, এর প্রমাণ সাধারণভাবে সুস্পষ্ট। পুনরায় ৯০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য যেমন পীড়াদায়ক, তেমনি অভিভাবক এবং ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্যও অস্বস্তিকর। যারা অনুত্তীর্ণ হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে ১৮,৪৬৩ জনের বিশেষ ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে যেমন মেধাবীদের ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনি অসদুপায়ের মাধ্যমে মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের ঢলও পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে বলে মনে করার সঙ্গত কারণ রয়েছে।

২। ডিজিটাল জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা যে কোন ধরনের অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। এ ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হল শুধু প্রায়োগিক পর্যায়ে যারা এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত শুধু তাদের নয়, এদের যারা পৃষ্ঠপোষক, পর্দার পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নেড়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্ত করে, তাদের স্বরুপ উন্মোচনের মাধ্যমে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

৩। সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমরা মনে করি, ভর্তি প্রক্রিয়ার দুর্নীতি সম্পর্কে তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত এবং যেহেতু বিগত কয়েক বছরে এ ধরনের দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার ধারাবাহিকতা কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সে প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কারো বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার ছাত্রত্ব বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪। আধুনিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, সিনেট, সিন্ডিকেট, অংশীজন এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পলিসি ডিবেটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করা। আমরা মনে করি, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্ক্ষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার সম্পর্কে মতামতের আদান প্রদানের মাধ্যমেই নতুন সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে আসা সম্ভবপর হবে। বিদ্যমান ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি কিছু ক্ষেত্রে মুখস্থবিদ্যানির্ভর, কিছু ক্ষেত্রে সৃজনশীল জ্ঞানের পরিপন্থী, কিছু ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে প্রথাগত প্রায়োগিক সিদ্ধান্তের বিচ্যুতি। বর্তমান ভর্তি পরীক্ষার ইতিবাচক দিকও নিশ্চয়ই অনেক রয়েছে। সেসব মূল্যায়ন, পুনর্মূল্যায়ন, সংযোজন-বিয়োজন, আত্তীকরণ, নতুন চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমেই কাঠামোগত সংস্কার সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিকল্প প্রস্তাবনাঃ ক) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের শর্তের পুনর্মূল্যায়ন করা অথবা নির্দিষ্ট ইউনিটের আসনের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া অথবা মূল ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে একটি প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে নিয়ে আসা।
খ) এমসিকিউ অংশের সাথে বর্ণনামূলক ও সৃজনশীল প্রশ্নমালার সংযোজন এবং নম্বরের পুনর্বণ্টন।
গ) বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে আমাদের দেশের বিদ্যমান বাস্তবতা ও চাহিদার সমন্বেয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশমালার নিরিখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা।
ঘ) অপরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন বিভাগ চালু না করে, বর্তমানের উপযোগী এবং উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণে সক্ষম বিভাগগুলো চালু বা বহাল রাখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, অবকাঠামোগত সুবিধা, যথার্থ একাডেমিক পরিবেশ প্রভৃতি সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যার প্রকৃত প্রয়োজনের পুনর্মূল্যায়ন করা।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুতনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার 'রুপকল্প ২০২১' এবং 'রুপকল্প ২০৪১' কে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলাদেশ' বিনির্মাণের অবিচ্ছেদ্য ইশতেহার হিসেবে মনে করে। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের অক্ষরে বাংলাদেশের উত্থানের কবিতা লিখে চলা ভিশনারি রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার লক্ষ্যের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে শতবর্ষে পা রাখতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত এবং একাডেমিক 'মাস্টারপ্ল্যান' থাকা অত্যাবশ্যক। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা এ বিষয়টিও বিনয়ের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই। আরেকটি বিষয় আমরা উত্থাপন করতে চাই সেটি হল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে যার আর্থিক বা আনুষঙ্গিক দায়ভার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বহন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে আমরা পরিশেষে বলতে চাই, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বর্তমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে, বা অপরাজনীতি দ্বারা শিক্ষাব্যবস্থার হেনস্থা হয় এ ধরনের কোন কর্মোদ্যোগ পরিলক্ষিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কর্তব্যবোধ এবং একাডেমিক দায়িত্বের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার ন্যায়সঙ্গত কারণেই তা শুভবোধের সম্মিলিত জাগরণের মাধ্যমে প্রতিহত করে একাডেমিক পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। উপরিউক্ত দাবিগুলো পূরণের মাধ্যমে গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরো দৃঢ়তার সাথে ধাবমান হবে বলে আমাদের একান্ত অনুভব এবং লাখো শহীদের রক্তরঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার গর্বিত ভূমিকা আরো শাণিত করবে বলেই আমাদের স্থির প্রত্যয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিরজীবী হোক।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

 

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।