চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ : ‘হত্যাচেষ্টার অভিযোগে’ মামলা


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-11-03 23:33:10 BdST | Updated: 2018-11-18 02:27:00 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানায় সমাজতত্ত্ব বিভাগের ৩য় বর্ষের আল আমিন ভূঁইয়া নামে এক শিক্ষার্থী মামলাটি দায়ের করেন।

আল আমিন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হাটহাজারী থানার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ শামীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলায় আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনের অনুসারী শ্রাবণ মিজান (মার্কেটিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ), সাঈদ করিম মুগ্ধ (বন ও পরিবেশবিদ্যা ইন্সটিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ), ফোরকানুল আলম (আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ), শফিকুল ইসলাম শাওন (পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ), মিজান সাইক (বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ), আনোয়ার হোসেন শুভ (চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ), শাহিব তানিম (লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) এবং আল আমিন শান্ত (নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ)। এরা সবাই সিক্সটি নাইন এবং ভিএক্স গ্রুপের অনুসারী।

মামলার এজহারে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার মোড়ে বিবাদীরা আল আমিনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। এসময় তাকে কিল, ঘুষি ও লাঠি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রধান আসামী শ্রাবণ মিজান ধারালো দা দিয়ে মাথার পিছনে জোরে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দ্বিতীয় আসামী আনোয়ার হোসেন শুভ হকিস্টিক দিয়ে কপালে আঘাত করে এবং তৃতীয় আসামী মিজান সাইক গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় অভিযুক্ত অন্যরা তাকে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পুনরায় এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাঠি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সাঈদ করিম মুগ্ধে আল আমিনের পকেট থেকে জোরপূর্বক মানিব্যাগ নিয়ে যায়। যার ভেতর নগদ পাঁচহাজার টাকা ছিল। পরে চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি এবং হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায়।

মামলার বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি জামান নূর বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নিবে বলে আমরা মনে করি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী সিক্সটি নাইনের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু  বলেন, মারামারিতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তবে আমরা চেয়েছিলাম বিষয়টাকে নিজেদের মধ্যেই সমাধান করতে। যেহেতু ওরা আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে, আমরাও একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করবো। আমাদের যে কয়জন আহত হয়েছে তারাও মামলা করবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।