জহুরুল হলে ভিপি ছাত্রলীগ, জিএস বিদ্রোহী ছাত্রলীগ


DU times
Published: 2019-03-11 23:46:44 BdST | Updated: 2019-05-20 11:45:05 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী সাইফুল্লা আব্বাছী অনন্ত। তবে এই হলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী তৌফিকুল ইসলাম। হল সংসদের বাকি পদগুলোতে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের সদস্যরা।

সোমবার (১১ মার্চ) রাতে এই হল সংসদের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের সাইফুল্লা আব্বাছী অনন্ত (১২৮৫ ভোট) ও জিএস নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের তৌফিকুল ইসলাম (৮৩৬ ভোট)।

হল সংসদের বাকি পদগুলোতে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা হলেন— সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সুরাপ মিয়া সোহাগ (১১৪১ ভোট), সাহিত্য সম্পাদক পদে কামাল উদ্দিন রানা (১২৭৭ ভোট), সংস্কৃতি সম্পাদক পদে শাকিল আহমেদ (১১১৩ ভোট), পাঠকক্ষ সম্পাদক পদে মো. ফারুক উদ্দিন (৯৯৩ ভোট), অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল রহমান (১৩২৭ ভোট), বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে আনন্দ ফকির (১৩২২ ভোট) ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ফাহাদ বিন আব্দুল হাকিম (১৩২১ ভোট। এছাড়া নির্বাচিত চার জন সদস্য হলেন— ফাহাদ তানভীর নাঈম (১০৪৪ ভোট), বি এম জবল-ই-রহমত (১০১৯ ভোট), মো. বজলুর রহমান (১০০৫ ভোট) ও এস এম নাফিউর রহমান (৯১১ ভোট)।

এদিকে, ফজলুল হক মুসলিম হলের হল সংসদ নির্বাচনে ভিপিসহ পাঁচ পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হল সংসদের বাকি আটটি পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা।

এর আগে, শামসুন নাহার হল সংসদে ১৩ পদের মধ্যে ভিপি ও জিএসসহ আট পদেই জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের হল সংসদ নির্বাচনেও ভিপি এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এছাড়া, হাজী মুহম্মদ মুহসীন ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়ী হয় ছাত্রলীগ। তবে বঙ্গবন্ধু হলে ভিপি-জিএসসহ ১১টি পদে জয়ী হয় এই প্যানেল। বাকি দুইটি পদে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এর আগে, সোমবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের দু’টি হল বাদে বাকি ১৬টি হলে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে। বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয় হলটির ভোটগ্রহণ।

এদিকে, রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় এক ঘণ্টা পর। আবার দুপুর ১২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে ব্যালট ভর্তি বাক্স উদ্ধারের পর ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বিকেল ৩টার পর রোকেয়া হলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ওই হলের ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৬টার পর শেষ হবে।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক আবদুল বাছির জানান, রোকেয়া হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট দেরিতে শুরু হওয়ায় হল দু’টোর ভোটগণনা শুরু হবে সন্ধ্যায়।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আমি এটির ভূয়সী প্রশংসা করি।’ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনের প্যানেলই নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় চার জোট। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেন।

তবে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগকে ঠেকাতে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের লিটন নন্দী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ও ছাত্রদলের অনিক একজোট হয়েছে ষড়যন্ত্র মঞ্চায়ন করেছে। বিভিন্ন জোটের পক্ষ থেকে নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের দাবিকে হাস্যকর বলে আখ্যা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।