অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া : ফেরদৌস আলম


ঢাকা
Published: 2019-05-16 17:45:34 BdST | Updated: 2019-05-26 20:16:38 BdST

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর অনেকে তা বিতর্কিত করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের নামে বিতর্ক আছে তাদের অনেকেই বিতর্কিত নন কিন্তু তাদেরকে প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেরদৌসের পরিবার সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগের এবং তিনি কলেজ জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং অনলাইনে সক্রিয়। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে ফেরদৌস আলম তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে জানিয়েছেন। তা হুবুহু এখানে তুলে ধরা হলো

প্রতিহিংসার রাজনীতি যে এতো জঘন্য হয়, জানা ছিলোনা। অবশ্য অবাক হইনি, এগুলা তাদের পুরাতন অভ্যাস।

চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলতে চাইনি৷ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবার পর কাঁদা ছোড়াছুড়ি নিয়মিত ঘটনা। কিছুদিন পরেই আবার সব ঠিকঠাক হয়ে যায়।

আজ দুপুরে অবাক হলাম ছোটভাইদের দেয়া দুইটা লিংক থেকে। বলতে পাড়েন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম কিছুক্ষন। প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিতে কিছুটা সত্য কিছুটা মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার কিংবা অপপ্রচার চালানো নিয়মিত ঘটনা। তাই বলে বাস্তবের সাথে যার কোনই সংস্পর্শ নেই, সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত তথ্য দিয়ে নিউজ করা, লাইভ টিভি প্রোগ্রামে বক্তব্য দিয়ে আসা কোন ধরনের নীতি-নৈতিকতায় পরে জানা ছিলোনা। প্রচার কিংবা অপপ্রচার চালানোই যায়, নিরেট সত্য বলতে তো একটা কথা আছে।

আমার নামে অভিযোগ তুলেছে আমি নাকি ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয়। এ নিয়ে আমি কোন কথা বলবোনা। বর্তমান ছাত্রলীগ নিয়ে যারা খোঁজখবর রাখেন ও আমাকে যারা চিনেন, তারাই ভাল বলতে পারবেন এ ব্যাপারটা কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা।

দ্বিতীয় অভিযোগ এসেছে আমি নাকি নারী উত্যক্ত এর দায়ে বহিস্কার হয়েছিলাম। এটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বহিস্কার হয়েছিলাম সত্য, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থ্যে হল ক্যান্টিনে পঁচা বাসী ও পোকাযুক্ত খাবার পরিবেশন করায় প্রতিবাদের কারণে। কিছুদিন পরেই ছাত্রনেতাদের চাপে বহিস্কারাদেশ তুলে নেয় প্রশাসন। এগুলো আজ থেকে সাত বছর আগের ঘটনা।
আশাকরি প্রক্টর অফিসে গেলেই এ সংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়া যাবে।

অন্যটি মুখে আনতে ঘেন্না লাগছে। একজন ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেত্রী কিভাবে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই লাইভ প্রোগ্রামে মিথ্যাচার করে আসতে পারে, বুঝে আসছে না। অবশ্য অবাক হইনি, উনি আওয়ামীলীগ সেক্রেটারিকে নিয়ে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করেছেন, আওয়ামীলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকেও কল্পনাপ্রসূত অপবাদ দিয়েছেন। আমি তো একজন নগণ্য কর্মী। এ আর এমন কি!

আমার দাদা মারা গেছেন আমি যখন ক্লাস ত্রি কিংবা ফোরে পড়ি তখন। এখনো মনে আছে ছোটবেলায় তার মুখে 'শেখ সাহেব' এর গল্প গুলো। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের এলাকার বিখ্যাত দমদমা ব্রিজ কিভাবে মুক্তিযোদ্ধারা গুড়িয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, সে গল্পও দাদার মুখে শোনা। ৭০ এর নির্বাচনে আমাদের পাশের গ্রামে তাজ উদ্দিন সাহেব, ক্যাপ্টেন মনসুর আলীসহ তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতারা প্রচারণায় আসলে কিভাবে দাদা দেখা করতে গিয়েছিলো, কিভাবে জনসভায় যোগ দিয়েছিলো, এসব গল্প বারবার শুনেছি। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পরেও ৯৬ এর নির্বাচনেও দাদা শেখ সাহেবের নৌকায় ভোট দিতে ভ্যানে করে বুথে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০০০ সালে তিনি মারা যান।

এমন একজন বঙ্গবন্ধু প্রেমী মানুষ কে নিয়ে মিথ্যাচার করতে একটুও বুক কাঁপলোনা? যেখানে আমার পিতৃ ও মাতৃ পরিবার নিজ নিজ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী পন্থী পরিবার বলে পরিচিত, তাদের নিয়ে নোংরামি করতে আপনার বিবেকেও বাধলো না?

অবশ্য সিন্ডিকেটের কাছে এগুলো ডালভাত। এরা নিজ স্বার্থ উদ্ধারে আমাদের সভাপতি শোভন ভাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা নানাকে পর্যন্ত রাজাকার বানাতে ছাড়েনি। এ আর এমন কি!

আমি গত কাউন্সিলে কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় এর সেক্রেটারি ক্যান্ডিডেট ছিলাম। আপনারা সবাই জানেন, নেত্রীর পার্সোনাল ইয়ং দিয়ে এবার সব ক্যান্ডিডেটের খোঁজ নেয়া হয়েছে। আমি এ কমিটির আগে হল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রের নেতা ছিলাম। তারাও খোঁজখবর নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। আট বছর থেকে রাজনীতিতে আছি, কোথাও কোন অভিযোগ নেতা, হঠাৎ এমন মিথ্যাচার শুরু করলো! তাদের অভিশাপ নয়, দোয়া করছি শুভবুদ্ধির উদয় হোক, বিবেকবোধ জাগ্রত হোক। গ্রুপিং রাজনীতিরই অংশ, তাই বলে দিনকে রাত যেন না বানান, সে অনুরোধ থাকবে।

সব তথ্য-প্রমান পেশ করলাম। বাকীটা আপনাদের সদয় বিবেচনা। 

আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে গতকাল আমি প্রমাণাদি দিয়েছি। ওরা এখন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এর একটাও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হয় প্রমাণাদি দেখাক, নয়তো আমি লিপি, সাইফ বাবু, জয়নালদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে ভাবমূর্তি বিনষ্ট করায় আইসিটি এক্ট ও মানহানির মামলা করবো।

সত্যের জয় হবেই, মিথ্যার পরাজয় সুনিশ্চিত।

লিখেছেন ফেদৌস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগ 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।