নেত্রকোণার হাঁস খামারির পাশে জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোবায়েল


নেত্রকোণা
Published: 2019-06-12 16:09:32 BdST | Updated: 2019-10-14 15:25:04 BdST

তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এই হাঁসগুলো। দুর্বৃত্তদের দেয়া বিষে হাঁস মারা যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী খামারি সেই আবুল কাশেমকে প্রায় অর্ধেক হাঁস একাই দিয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতা।মোট মারা যাওয়া ৪১৩ হাঁসের বিপোরীতে নিজ উদ্যোগে ২০০ হাঁস দিয়ে জেলার সর্বস্তরের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন বিনয়ী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোবায়েল আহমদ খাঁন।

মুঠোফোনে খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণার সন্তান ও বর্তমানে নেত্রকোণায় অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক এস.এম.রাকিব সিরাজী।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিকেলে আবুল কাশেমের বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার হাতে ২০০ হাঁসের দাম ২৮ হাজার টাকা তুলে দেন সোবায়েল আহমদ খান।

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মিঠুন সাহা,জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সৈয়দ আল রাকিব,জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শুভ্র,মোঃকরিম।এর আগে রোববার রাতে খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার কথা জানিয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।সোবায়েল আহমদ খান বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের স্ট্যাটাস দেখে আমি তার সঙ্গে কথা বলি। রাব্বানী ভাইয়ের নির্দেশে তার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে আবুল কাশেমের বাড়িতে গিয়ে ২০০ হাঁসের দাম ২৮ হাজার টাকা দিয়ে এসেছি।সোবায়েল আহমদ খান বলেন ছাত্রলীগ সবসময় এদেশের যেকোন সংকট,সংগ্রামে মানুষের পাশে ছিল।এক সময় এদেশে স্বাধীনতার সংকট ছিল,পরবর্তীতে গনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংকটও এসেছে,ছাত্রলীগ সব সংকট মোকাবেলায় সংগ্রামী নেতৃত্ব দিয়ে সামনে থেকেছে।এখন দেশে অন্য কোন সংকট খুব একটা নেই,আছে মানবিক সংকট।নেত্রকোণা জেলার যেকোন মানবিক বিপর্যয়ে জেলা ছাত্রলীগ পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন ।

তাছাড়া এ ধরনের কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।এ প্রসঙ্গে খামার মালিক আবুল কাশেম জানান, ছাত্রলীগ নেতারা আমাকে হাঁস কেনার টাকা দিয়েছেন। আমি এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে চলতে পারব।উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেমের ৪১৩টি হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। মরে যাওয়া হাঁসের বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এসব হাঁসের ডিম বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি।