ছাত্রদলের কাউন্সিল: নেতৃত্বে আসার আলোচনায় আছেন যারা


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-06-29 23:53:11 BdST | Updated: 2019-12-06 09:34:54 BdST

আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা ভোটের জন্য বিভিন্ন কমিটির নেতাদের কাছে ধরনা দেওয়া শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ার জন্য।

ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সার্চ কমিটি এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের কাছে যাচ্ছেন তারা। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের অংশগ্রহণ ও ভূমিকার প্রমাণ দিচ্ছেন। তবে এবারও সিন্ডিকেট আতঙ্কে রয়েছেন সংগঠনের ত্যাগী ও যোগ্যরা।

তারা মনে করছেন, সিন্ডিকেটের আশীর্বাদ ছাড়া শুধু যোগ্যতা দিয়ে ছাত্রদলের নেতা হওয়া যায় না। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে করছেন না তারা। এর পরও নেতৃত্বের প্রত্যাশায় প্রার্থীরা কাজ করছেন, সংগঠনের কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অনেক পদপ্রত্যাশী নেতা ইতিমধ্যে কাউন্সিলরদের সমর্থন পেতে বিভিন্ন জেলায় ছুটে যাচ্ছেন।

৩ জুন রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। আগামী ১৫ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে জানান, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে নিজে কাজ করছেন। তার চারপাশে অবস্থান নেওয়া সিন্ডিকেটকে জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি সম্পূর্ণ নিষ্ফ্ক্রিয় করেছেন। কমিটি গঠন কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের মতামত, পরামর্শ এমনকি যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করেছেন তিনি। দলের সাংগঠনিক চিত্র জানার জন্য পৃথক সেল গঠন করেছেন। তাই কমিটি গঠনে আগের সিন্ডিকেট তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

নতুন কমিটির পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় সাবেক বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ,  মিরাজ আজিম-কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, সহতথ্যবিষয়ক সম্পাদক মামুন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সিনিয়র সহসভাপতি তানভীর রেজা রুবেল।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাহ নেওয়াজ যিনি ঢাবির জহুরুল হক হলের ছাত্র। আরো আছেন সহঅর্থবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন, সহসভাপতি আমিনুর রহমান আমিন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ইকবাল হোসেন শ্যামল। 

শাহ নেওয়াজ বলেন, ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখব। ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত ভিত্তিতে নিয়ে আসতে যা যা করনীয় করব। 

ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, এই মুহূর্তে সংগঠনকে আন্দোলন-সংগ্রামের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। নেতৃত্বে আসতে পারলে দেশের প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ও আন্দোলনমুখী ছাত্রদল প্রস্তুত করাকেই বেশি প্রাধান্য দেবেন।