ছাত্রলীগের কমিটি 'নাড়াচাড়া' হলে ভেঙে পড়বে 'চেইন অব কমান্ড'?


Dhaka
Published: 2019-09-14 13:23:38 BdST | Updated: 2019-12-15 00:10:38 BdST

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি অপসারিত হলে বেকায়দায় পড়বে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার শত শত নেতাকর্মী এবং সারা বাংলাদেশে শোভন-রাব্বানীর অনুসারী হাজার হাজার নেতাকর্মী ।

ইতোমধ্যেই এসব নেতা কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সাধারণত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী হয়ে নেতাকর্মীরা রাজনীতি করে থাকেন। এতে করে যারা এখনও পর্যন্ত শোভন ও রাব্বানীর পক্ষ নিয়েছেন পরবর্তী নতুন কেউ দায়িত্ব পেলে তাদেরকে বেকায়দায় পড়তে হবে।

তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি অপসারণ করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং আমরা মনে করি , প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন।

তবে আশার সংবাদ হলো এখনো তাদেরকে অপসারণের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি হলে তাদের হাতে গড়া নেতারা হয়েছেন ছাত্র সংসদের ভিপি, জিএস এবং বিভিন্ন সম্পাদক।

ফলে শোভন এবং রাব্বানীকে অপসারণ করা হলে এসব নেতারা কোনদিকে যাবেন, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে।  এসব নেতারা নতুন নেতৃত্বের কাছে গুরুত্ব পাবেন না, সৃষ্টি হবে নতুন ধারা-উপধারা, গ্রুপ উপ-গ্রুপ। ফলে বেকায়দায় পড়তে হবে এসব নেতাদের। আর সে সময় ঘটতে পারে যেকোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।

সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেন এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বলছেন : ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে এই কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত করা উচিত এবং নিয়মিত তাদেরকে মনিটরিংয়ে রাখা উচিত।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান কমিটিকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে আগামী সম্মেলনের আগ পর্যন্ত নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ দেয়া হতে পারে। আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের নেতারাও বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করে থাকতেন এবং বিভিন্ন ধরনের টেন্ডার তদবির কাজ করে থাকতেন। কিন্তু সেসব কমিটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসায়  তা নিয়ে তেমন আলোচনা হতো না।  বর্তমান কমিটি ব্যতিক্রমভাবে দায়িত্ব আসায় প্রতিটি ধারা তাদের বিপরীতে কাজ করছে। ফলে তাদের যেকোনো ধরনের তথ্য অতি দ্রুত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন মহলে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি বর্তমান কমিটিকে বিভিন্ন ধারা উপধারা পুরোপুরি সহযোগিতা বিভিন্ন কাজে করছে না।

এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত। তিনি যা বলবেন সেটাই করণীয়।

লেখক: শাহিন আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষার্থী।