ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সেক্রেটারি শ্যামল


Dhaka
Published: 2019-09-19 04:35:58 BdST | Updated: 2019-10-14 10:46:41 BdST

দীর্ঘ ২৭ বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

জানা গেছে, ৫৩৩ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৪৯৬টি।

এর মধ্যে ১৮৬ ভোট পেয়ে ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খোকন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ পেয়েছেন ১৭৮।

অন্যদিকে, ১৩৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকিরুল ইসলাম জাকির পেয়েছেন ৭৮।

জানা গেছে, নবনির্বাচিত সভাপতি খোকনের বাড়ি বগুড়া জেলায়। আর সাধারণ সম্পাদক শ্যামলের বাড়ি নরসিংদীতে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টায় ছাত্রদলের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এর আগে রাত ৮ টার কিছু পরে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর ছাত্রদলের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনের কাজটি শুরু করেছি। রাত পৌনে ১টার দিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা জানান তিনি।

৫৩৩ ভোটের মধ্যে ৪৯৬ ভোট কাস্ট হয়েছে। ১০ জন কাউন্সিলর গত দুইদিনে গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এরআগে বিকালে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে কাউন্সিলরদের ডাকা হয়েছিল, সন্ধ্যার পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে।

সেখানেই স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে রাতে কাউন্সিলররা নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ভোট দেওয়া শুরু করেন।

ছাত্রদলের শীর্ষনেতা নির্বাচনে ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ভোট হচ্ছে। ওই কাউন্সিলের রুহুল কবির রিজভী সভাপতি এবং এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর ছাত্রদলের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনের কাজটি শুরু করেছি।

ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন নয়জন, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ১৯ জন।

১৪ সেপ্টেম্বর এই কাউন্সিল অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করা হলেও ছাত্রদলের এক নেতার আবেদনে ঢাকার একটি আদালত এই কাউন্সিলে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় তা হয়নি।

বিএনপি নেতারা বলেন, আইনজীবীরা মত দিয়েছেন যে কাউন্সিল করায় আইনগত কোনো বাধা নেই। এর পরপরই বুধবার বিকালে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের ডাকে এই কাউন্সিলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন- ফজলুর রহমান খোকন, হাফিজুর রহমান, মামুন বিল্লাহ (মামুন খান), সাজিদ হাসান বাবু, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো এরশাদ খান, মাহমুদুল আলম সরদার ও কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন- মো. শাহনেওয়াজ, আমিনুর রহমান আমিন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, তানজিল হাসান, কারিমুল হাই নাঈম, মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, শেখ আবু তাহের, সাদিকুর রহমান, কেএম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন শ্যামল, জুয়েল হাওলাদার, মুন্সি আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মসিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের জন্য ছাত্রদলের প্রভাবশালী কয়েকজনকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের নির্দেশে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি খন্দকার এনামুল হক কাউন্সিলরদের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৭ বছর পর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল গত ১৪ সেপ্টেম্বর। তবে ১২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহর করা মামলায় এই কাউন্সিলের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয় এবং বিএনপির নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়। ষষ্ঠ কাউন্সিল করার জন্য বিএনপি থেকে একটি কমিটি করা হয়েছিল। তবে আদালতের আদেশের পর এখন ছাত্রদলই নিজেদের বিষয়টি দেখবে বলে জানানো হয় বিএনপি থেকে।