প্রতিবন্ধী আবুল রুম থেকে বের করে দিলেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-09-20 01:18:27 BdST | Updated: 2019-10-14 10:46:36 BdST

হল প্রশাসনের কাছে রুমে পড়াশুনার পরিবেশে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ করায় দুই প্রতিবন্ধী রুমমেটকে রুম থেকে বের করে দিয়েছেন এক প্রতিবন্ধী নেতা।

আবুল হোসেন নামে এই নেতা ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের নির্বাচিত সমাজ সেবা সম্পাদক। আবুল নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। 

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মুহসীন হলের ৩(ক) নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাসেল এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম রানা।

তারা অভিযোগ করে বলেন, আবুল হোসেন রুমেউচ্চস্বরে কথা বলে তাদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটান। এছাড়া আবুলের আশ্রয়ে অনেকদিন থেকেই একজনবহিষ্কৃত ছাত্র রুমে মাদক সেবন করে। এসব ঘটনা তারা গত ৪ সেপ্টেম্বর হল প্রাধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

আবুল হোসেন আজ অভিযোগ করার বিষয়ে জানতে পারেন। জানতে পেরে সন্ধ্যার দিকে অভিযোগকারীদেরহুমকি-ধামকি শুরু করেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘কেনতারা হল প্রাধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেছে।’ এ সময়আবুল হোসেন একটি লাঠি নিয়ে মারতে তেড়ে আসলেভয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায় তারা।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, আবুল হোসেন‘প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থা’ নামে একটিসংগঠনের সভাপতি। ওই সংগঠনের যে কোন প্রোগ্রামেতাদের জোর করে নিয়ে যায় আবুল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী  রাসেল বলেন, তারা প্রায়ই রুমে সমস্যার সৃষ্টি করে এতে আমাদের পড়াশোনা বিঘ্নিতহয়। এই ঘটনা হল অফিসে অভিযোগ করায় আবুলহোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করতে আসে এবং গালিগালাজ করে। আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছিপ্রভোস্ট স্যার ব্যবস্থা না নিলে রুমে ফিরব না।

আবুল প্রভাবশালী প্রতিবন্ধী ছাত্রলীগ নেতা

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকারকরে পরে আবুল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কীঅভিযোগ করেছে তা-ই জিজ্ঞেস করেছিলাম। লাঠি নিয়েমারতে যাইনি।’ কক্ষে মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকারকরেন তিনি। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত করেছেনবলে জানান আবুল।

ঘটনার বিষয়ে হল সংসদের জিএস মেহেদী হাসানবলেন, এ নিয়ে আবুল হোসেনকে হল সংসদে তিরষ্কারকরা হয়েছিল। কিন্তু এখন অবস্থা অসহনীয় পর্যায়েচলে গেছে। প্রভোস্ট স্যারও বিষয়টি জানেন। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিক্ষকগণ ব্যস্ত থাকায় ২৭ তারিখেরপরে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হকভুইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।