করোনায় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতার মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত


কুমিল্লা
Published: 2020-06-28 13:50:44 BdST | Updated: 2020-07-12 16:20:06 BdST

করোনা বিপর্যয়ে যখন পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে তাঁর উদয়! পুরো পৃথিবীর সবাই যখন নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজেকে ঘরের মধ্যে গুটিয়ে নিলো ঠিক তখনই গুটি কয়েক সুপার হিরোর মধ্যে তার আবির্ভাব! তেমনি একজন নাঙ্গলকোটের জহিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত আছেন। দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের।

করোনার ভয় যখন একে একে সবাইকে কাবু করে দিচ্ছে ঠিক তখন এই ভয়কে জয় করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন সুপার হিরোর মতো করোনা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি। শুধু নিজেই নয়, এই যুদ্ধে একে একে শামিল করলেন তাঁর নিজ উপজেলা নাঙ্গলকোটের মোট ৮০০ এর অধিক সাধারণ শিক্ষার্থী, ১৩ জন ডাক্তার এবং ৪১ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে। তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় করোনা সংকট মোকাবেলায় ও মানুষকে সচেতনতার লক্ষ্যে তিনি গড়ে তুলেন স্বেচ্ছাসেবী টিম ‘সংশপ্তক’। এই টিমটিতে কাজ করছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। আর তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী টিম ‘সংশপ্তক’ এখন নাঙ্গলকোট উপজেলায় আলো ছড়াচ্ছে। করোনা সংকট মোকাবেলায় এই স্বেচ্ছাসেবী টিম ‘সংশপ্তক’ নাঙ্গলকোট ছাড়িয়ে এখন সারা দেশে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যম ছাড়িয়ে এখন অনেকগুলো জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম ও হেডলাইন হয়েছে ‘সংশপ্তক’।

এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন।

খবর নিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলায় করোনা সংকট মোকাবেলায় অনেক সহায়ক কার্যক্রম চালায় টিম ‘সংশপ্তক’। নাঙ্গলকোটে একসাথে ১ হাজার ৭০০ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ, উপজেলার বাজারে ও গ্রামে জীবাণু নাশক প্রয়োগ, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, সকলের মাঝে জনসচেতনতা মূলক প্রচার কার্যক্রম সহ আরো অনেক সহায়ক কার্যক্রম চালায় এই টিম। যা নাঙ্গলকোট সহ শুরু করে দেশের অনেক মহলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে তাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ সম্পাদক নঈম নিজাম এসে সংশপ্তকের পাশে দাঁড়ান। বর্তমানে ‘সংশপ্তক’র নতুন কার্যক্রম ‘হ্যালো সংশপ্তক’র মাধ্যমে উপজেলার মধ্যবিত্ত কর্মহীন পরিবার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়া অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে জরুরি উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় এখনো পর্যন্ত ৬৮ জনের অধিক কর্মহীন মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ২৬ জনের বেশি অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

উপজেলার এক বিধবা মহিলার পাঁচ মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন শুনে সেই বিধবা মহিলার পাশে দাঁড়ান তিনি। দুইদিন ধরে অনাহারে থাকার মহিলাটির বাড়িতে পৌঁছে দেন খাদ্য সামগ্রী। পাশাপাশি চারচালা বিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে দেন। মহিলার ছোট মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের পাশে যেখানে তার পরিবারও থাকছেন না সেখানে তিনি সেই মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সার্বক্ষণিক তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, মানসিকভাবে শক্তি যোগানোর চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজে গিয়ে ফলসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছেন পরিবারগুলোকে।

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমি এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি সংশপ্তক এত দূর এগিয়ে যাবে। এখনো পর্যন্ত সংশপ্তক অনেক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং সামনে আরো কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে আমাকে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে কিন্তু আমি আমার সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে এসব মোকাবিলা করে সংশপ্তককে এতদূর নিয়ে আসতে পেরেছি। আর এই মহান কাজে আমাকে নাঙ্গলকোটের সাধারণ শিক্ষার্থী, জনগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন সহ সকলেই সহযোগিতা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। আমি সকলের নিকট তাদের এই সহায়তা ও ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।’

এর আগেও তিনি উপজেলার ৮৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি বিতরণ করেন। ৩০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ছোটদের শেখ মুজিব বইটি বিতরণ করেন। এলাকার শিক্ষার্থীদের নানা নিয়ে নানা মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম এর আয়োজন করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার প্রতি সচেতন করছেন। গরীব অসহায় মানুষের যেকোন সমস্যা সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামইয়া সাইফুল ‘সংশপ্তক’র কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন,‘দেশের এমন দুর্যোগ কালীন সময়ে এসে টিম সংশপ্তক একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। তারা সকলে মিলে দেশের এমন কান্তিলগ্নে যে সহায়তা মূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা সত্যিই অনেক বেশি প্রশংসনীয়। তাদের এমন কার্যক্রমের জন্য আমি তাদের সকলকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

এছাড়াও তিনি দেশের তরুণ সমাজকে এমন সমাজিক কাজে উদ্ভুদ্ধ হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের এমন সংকট কালীন সময়ে সংশপ্তকের মত সামজিক দুরত্ব ও স্বাস্থবিধি মেনে চলে তরুণ সমাজ যদি দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করে তাহলে আমরা অতি শীঘ্রই এই সংকট থেকে বের হতে পারবো।’