ঢাবির টিএসসিতে ছাত্রইউনিয়ন নেতাদের 'বসবাস' নিয়ে সমালোচনার ঝড়


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-07-06 13:20:40 BdST | Updated: 2020-08-09 12:05:23 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের বসবাস নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় দেখা গিয়েছে।যদিও তারা বলছেন, এখানে থেকে তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন। এজন্য তাদের এখানে থাকা অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।

তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের কর্মসূচিও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে সর্বমহলে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকদল শিক্ষার্থীর দাবি, মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন টিএসসি দখল করে রেখেছে ছাত্র ইউনিয়ন। বহিরাগত কর্মী এনে টিএসসিকে বানিয়ে ফেলেছে তাদের মিনি সোভিয়েত। ছেলে-মেয়ে একসাথে টিএসসিতে রাত্রিযাপন করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর বিষয়টা আমাদের সমাজ প্রেক্ষাপটে মোটেও স্বাভাবিক নয়। 

সংবাদে যে ছবিটি দেখছেন তাতে দেখা যাচ্ছে ছবিটি তোলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির ভেতর থেকে।ছবিটি আপলোড দিয়েছে ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক। ছবিটিতে যাদের ট্যাগ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন,

লিমা চৌধুরী লিমন — ইডেন কলেজ ছাত্রী, একইসাথে ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সমাজ কল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। সাদাত মাহমুদ -  ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসের ছাত্র।

মোহাম্মদ বিল্লাল - কবি নজরুল কলেজের ছাত্র এবং মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক। স্বর্ণা আক্তার - সাধারণ সম্পাদক, লালবাগ থানা ছাত্র ইউনিয়ন।

সাজ্জাদ হোসেইন শুভ - আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজের ছাত্র এবং আদাবর থানা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফাহিম পবন - আর কে চোধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র এবং ঢাকা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক

জাওয়াদুল ইসলাম - সিপিবি কর্মী। জহরলাল রায় - প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি।

এই ছবি আপলোড দেওয়ার পর ঋদ্ধ গাঙ্গুলী জানান, "এটা একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ল্যাবের কর্মীদের ছবি। যারা গত একশোর বেশি দিন ধরে টিএসসি'তে অবস্থান করে কয়েক লক্ষ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য। এবং যার কাজ এখনো চলমান। এটা তাদের বাসার মতো। ঘরের মধ্যে মাস্ক পরে থাকা নিয়ে যদি বলো তাহলে অবশ্য আলাদা কথা।"

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর মুলো ঝুলিয়ে, বহিরাগত ঢুকিয়ে, কাঁথা বালিশসহ রাত্রিযাপন করে টিএসসিকে বাসাবাড়ি বানানোটা নিন্দনীয় কাজ ।

এদিকে জানা গেছে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত টিএসসির রান্নাঘর খাবার তৈরীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অনুমতি চাইলেও তাকে দেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন যাবৎ অসহায় মানুষকে তিনবেলা খাবার খাইয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে এক বেলা খাবার খাওয়াচ্ছেন। যা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।