রাবি ভিসির বাসভবনে তালা লাগিয়ে ছাত্রলীগের অবস্থান


Dhaka
Published: 2021-01-12 00:59:04 BdST | Updated: 2021-01-21 15:05:44 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে আন্দোলন করেছেন চাকরি প্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। সোমবার রাত ৯টার পর উপাচার্যের বাসভবনে তারা তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত ১১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় উপাচার্য বাড়িতেই অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে জালাল ভূঁইয়া নামে একজনের চাকরি নিশ্চিত করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্য চাকরি প্রত্যাশীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড় হতে থাকেন। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছয়জনের একটি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে তাদেরকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। পরে উপাচার্যের বাড়ির বাইরে এসে কয়েকজন মিলে গেটে তালা লাগিয়ে দেন।

সেখানে আন্দোলনরত দু’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে উপাচার্য আমাদেরকে চাকরি দেবেন বলে আশ্বস্ত করে আসছেন। কিন্তু চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম তো চলছেই। আজকেও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, একজনের চাকরি হয়েছে শুনে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানতে যায়। অনেকেরই চাকরি হচ্ছে কিন্তু ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক অনেক নেতার চাকরি না হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করেছি।

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থেকে চিঠি দিয়ে একজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। ছেলেটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, কিন্তু লেখাপড়া ও খেলাধুলায় খুবই মেধাবী। গত ৩ জানুয়ারি চিঠিটি এসেছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (সোমবার) তাকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রলীগের কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী এসে তাদেরকেও চাকরি দিতে দাবি জানায়। আমি বিষয়টি খুলে বলেছি কিন্তু তারা সেটি না শুনে আন্দোলনে নেমেছে। যতটুকু জেনেছি আমার বাড়ির গেটে ও প্রশাসন ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে উপাচার্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।