মানবিক ছাত্রলীগ


শাহীন আব্দুল্লাহ
Published: 2018-02-17 17:42:22 BdST | Updated: 2018-12-10 20:27:44 BdST

অতীতের তুলনায় মানবিক কাজে অংশগ্রহণ বেড়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মানবিক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি জড়িয়েছে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির নেতা কর্মীরা। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আলোচনায় বলে বেড়ান যে, 'ছাত্রলীগের এই কমিটি সবচেয়ে বেশি ভদ্র'।   

ঠিক একই সুরে সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক টকশোতে সুভাষ সিংহ রায়ও বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগের আবিদ-প্রিন্স কমিটি আগের যেকোন তুলনায় সচ্ছ এবং ভদ্র কমিটি। 

এর কারণ হিসেবে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্রলীগের মাঝে এখন আর অর্থলোভী, অহংকারী নেতা নাই বললেই চলে। ক্ষমতার লোভ অনেকটা কমে গেছে। দলটিতে অপরাধ করে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। তাই অপরাধ কর্মকাণ্ডের চেয়ে ছাত্রলীগের নেতারা এখন ভালো কাজে উৎসাহিত হচ্ছে এবং ফোকাসে আসছেন। যদিও মাঝে মাঝে কিছু অনৈতিক কান্ডে শিরোনাম হচ্ছে দলটি তবে তা সরাসরি ছাত্রলীগের অপরাধ নয়। হয় কেউ তাদের ব্যবহার করেছে, না হয় উস্কে দিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাশে ছাত্রলীগ ও ওবায়দুল কাদের 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানবতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ রেখেছে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে। 

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় ১০০ দিন পার করল ছাত্রলীগ। এই একশ দিনে ৩৪ হাজার ৭৮৫ জন রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সরবরাহ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনটি।গত অক্টোবরে, ২০১৭তে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশের কক্সবাজারের দিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় হয়েছে বিভিন্ন ক্যাম্পে। তাদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমনকি সাধারণ মানুষ বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। এর মধ্যে আছে ছাত্রলীগও। নানা সময় কর্মীদের নানা কাজের জন্য বিতর্কিত হলেও সংগঠনটি তার জনসেবার ঐতিহ্য যে ধরে রেখেছে সেটি প্রমাণ করেছে কক্সবাজার ছাত্রলীগ।রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক চাহিদা খাদ্যর দিকেই প্রথম নজর দিয়েছিল সহায়তা প্রদানকারীরা। ছাত্রলীগ এই বিষয়টির পাশাপাশি গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিতে।ছাত্রলীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় একটি মনিটরিং সেল ও বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প চালু করেন তারা। কক্সবাজার ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে উখিয়ার বালুখালীস্থ টিভি টাওয়ার এলাকায় স্থাপন করা হয় ক্যাম্পটি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের সব সমস্যায় প্রধানমন্ত্রী পাশে থেকেছেন। তাদের এই জাতিগত সমস্যা সমাধানে তিনি বিশ্ব নেতাদের এগিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বিশ্বশান্তির মডেল উপস্থাপন করেছেন।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ

ছাত্রলীগ মানবতার সংগঠন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা চিকিৎসা বিজ্ঞান জেলা শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত ছিন্নমূল শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এছাড়াও এই নেতা নিজ উদ্যোগে অনেক কম্বল বিতরণ করেছেন। অনেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি একটি সামাজিক সংগঠন পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। যেখানে শিশুদের পড়ালেখা শিখানো হয়। 

গভীর রাতে একাকী কম্বল বিতরণ করছেন জাকির 

৯ জানুয়ারি ২০১৮। রাত ৩টা ১৬ মিনিট। সুনশান নীরবতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে। তীব্র শীতে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয় না। আর এমন গভীর রাতে পুরো রাজধানীতেই রাজ্যের নীরবতা। তবে ব্যক্তিগত কাজ শেষে পুরান ঢাকা থেকে ফিরছিলেন এই প্রতিবেদক। পথে পলাশী-নীলক্ষেত রোডে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে একাকী একজন মানুষকে কম্বল বিতরণ করতে দেখে আগ্রহ ভরে পরিচয় জিজ্ঞাসা করে জানা গেল- কম্বল বিতরণকারী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। একটি বড় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের একাকী কম্বল বিতরণের এমন দৃশ্য অনেকটা অবাক হওয়ার মতো হলেও সত্য। পরিচয় পর্ব শেষে কথা হয় এস এম জাকির হোসাইনের সঙ্গে। এছাড়াও এ নেতার সহায়তায় অনেক অসহায় ব্যক্তি উন্নত চিকিতসা পেয়েছেন। 

অসহায়দের সাথে গোলাম রাব্বানী 

গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের অনন্য এক মানবিক নেতা। নেতাকর্মীরা তাকে মানবিক ছাত্রনেতা বলে ডাকেন। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে সবার আগে ছুটে যান এ লোকটি। তার বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০টিরও বেশি পরিবার সহায়তা পেয়েছে। কোন অসহায় ব্যক্তির পাশে কেউ কথা বলার আগেই তিনি কথা বলেন। মুখ দিয়ে লিখে অনার্স পাশ করে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর শারীরিক প্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী হাফিজুর এর লেখাপড়ার খরচ চালানোর দায়িত্ব নিয়েছেন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। এখানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করনে গোলাম রাব্বানী। এছাড়াও বগুড়ার রিকশাচালকের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন সাথে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। সেই সাথে পঙ্গুত্ব বরণকরা সেই রিকশাচালকের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করায় দায়িত্ব নেন। আর কদিন আগেই ছেলে ও পুত্রবধুর কাছে নির্যাতনের শিকার এ বৃদ্ধা মায়েরও ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন ছাত্রলীগের অন্যতম জনপ্রিয় এই নেতা। সবকিছু নিয়ে সামগ্রিকভাবে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে এই ছাত্রনেতা জানান, ‘রাজনীতি করি একটি আদর্শের জায়গা থেকে। সেই আদর্শ থেকে যে শিক্ষাটা পেয়েছি সেটা হলো মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করা। তাই যখনই সুযোগ আসে চেষ্টা করি ভালো কাজের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখার। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত বছরগুলো ওরকম কিছু কাজ করেছি। সকলের দোয়া থাকলে ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতেও ভালোকাজ চালিয়ে যাবো।’

দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো রুবিনার পাশে জবি ছাত্রলীগ ও মন্ত্রী 

ট্রেনে দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্রী রুবিনা আক্তারের চিকিৎসা পরবর্তী খরচের জন্য দুই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বুধবার দুপুরে রেল ভবনে রুবিনার মায়ের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন তিনি। এ সময় জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলসহ ছাত্রলীগে অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও  সারাদেশে ছাত্রলীগ যেখানে নানা বিতর্কে জড়িয়ে আলোচনা, সমালোচনায় উঠে আসে সেখানে অসহায় এক বৃদ্ধের জীবন বাঁচিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। ঘটনা ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এর বৃহস্পতিবারে সন্ধ্যার দিকের।৭০ বয়সী এক বৃদ্ধ গাবতলী থেকে সদরঘাট আসার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। মুমূর্ষ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে সর্বস্ব লুটে পালিয়ে যায় অজ্ঞান পার্টির লোকজন। বৃদ্ধ যখন জীবন মরণের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে পাঞ্জা লড়ছিলেন, কেউ তার পাশে না দাঁড়ালেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের নেতৃত্বে অন্যান্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।রাসেল বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় বৃদ্ধ লোকটিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা সাথে সাথে আমাকে খবর দেয়। আমরা দ্রুত তাকে মিডফোর্ট হাসপাতাল নিয়ে যাই।

জণ্ডিসে প্রাণ হারানো ঢাবি ছাত্রের অসহায় পরিবারের পাশে ছাত্রলীগ

ঢাবি বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন জানান, জিল্লুর নামে আমাদের হলের একটা  ছাত্র জণ্ডিসে প্রাণ হারায়। তার অসহায় পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করেই জাতির জনক বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৮১, হাজার ৫শত টাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ভাইয়ের সহযোগীতায় ১ লক্ষ টাকার একটি স্থায়ী এফডিআর করতে সক্ষম হয়েছি। ছাত্রলীগ যুগে যুগে মানবতা ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জিল্লুর রহমানের মায়ের একটি নতুন ঘর বর্তমানে নির্মান করা হয়েছে।

জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমনও বিভিন্ন সময় কয়েকটি অসহায় পরিবারকে অর্থ তুলে দিয়ে এবং পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে টাকার ব্যবস্থা করে অর্থ সহায়তা চাওয়া এক পরিবারের খোঁজ চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের স্যাটাস দিয়ে সেই পরিবারকে সহায়তা পৌঁছে দেন। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মন্তব করে লিমনকে প্রশংসায় ভাসান।  

ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের মানবিক কাজে অংশ নেয়ার সংবাদও নিয়মিত পত্রিকায় আসছে।  

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রক্তদান, বন্যার্তদের পাশা দাঁড়ানো, অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়ে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, তবে ছাত্রলীগের কিছু কিছু কারনে যেসব বদনাম হয়েছে তা থেকে ছাত্রলীগকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক কাজগুলো আরও তরান্বিত করতে হবে। 

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।