ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম করার বিষয়ে জানতে চাইলে বায়জিদ বলেন, 'আমি তো ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হইনি'

এখনও হলে থাকছেন ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত বায়জিদ!


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-02-23 15:13:49 BdST | Updated: 2018-12-10 09:24:25 BdST

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত মনোবিজ্ঞান বিভাগের মো.বায়জিদ ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় এখনও হলে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সোহানুর রহমানের শেল্টারে ভবায়জিদ হলে থাকছে।

বায়জিদ ২০১৬-১৭ সেশনের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ৫৮ তম হয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে প্রশ্নপত্র দেয়া হয় বলে সিআইডির অভিযোগপত্রে জানা যায়।

হল সূত্রে জানা যায়, বায়জিদ জহরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সোহানুর রহমানের সোহানের অনুসারী এবং তিনি হল ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি হলে থেকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও অংশ নেন।

প্রোগ্রাম করার বিষয়ে জানতে চাইলে বায়জিদ বলে, 'আমি তো ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হইনি'।

কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হলে ঢাবি সংশ্লিষ্ট কোন কিছুতেই অংশ নেয়ার তার অধিকার নাই। বরঞ্চ ঢাবি শিক্ষার্থীদের পাশা দাঁড়ানোর কোন সুযোগ নেই তার। শিক্ষার্থীরা বলছেন, একজন প্রমাণিত অপরাধী এবং বহিষ্কৃত ছাত্র ঢাবি ক্যাম্পাসে আসারই ই ত সাহস থাকার কথা না। 

ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে গত জানুয়ারী মাসের ৪ তারিখে বায়জিদসহ মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, বায়জিদ নিয়মিত হলে থাকে না। মাঝেমধ্যে আসে। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা নিয়মিত বায়জিদকে হলে দেখেন। কিন্তু মাঝেমধ্যেও তার হলে আসার কোন অধিকার নাই। কারণ ঢাবির সাথে তার আর কোন সম্পর্ক নাই। আর ঢাবির মর্যাদা নষ্ট করায় শিক্ষার্থীদেরও উচিত তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। 

জহুরুল হক হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, তাকে আমরা প্রায় নিয়মিতই হলে দেখি। হল ছাত্রলীগের উচিত তাকে হল ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে সেই পদে মেধাবী কাউকে বসানো। এতে ছাত্রলীগেরই ভাবমূর্তি উন্নত হবে। 

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেলওয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়ার পর কারো হলে থাকার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।