‘প্রয়োজনে লাখো নেতা-কর্মীর পক্ষ থেকে আমরা আপার সাথে দেখা করবো’


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-03-08 15:01:57 BdST | Updated: 2018-09-25 08:10:51 BdST

গোলাম রাব্বানীঃ আমি খুব সরল বুঝি, সব কিছুর ঊর্ধ্বে প্রাণপ্রিয় নেত্রীর সম্মান। যে সম্মান রক্ষায় জান হাজির! গত ৬ জানুয়ারি ও ৭ মার্চ, দুই দুইবার দেশের সকল জাতীয় দৈনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে আমাদের একমাত্র অভিভাবক, দেশরত্ন শেখ হাসিনার ইচ্ছার বরাত দিয়ে ৩১ মার্চ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নিশ্চিত করেছেন শ্রদ্ধাভাজন নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি। লাখোলাখো তৃণমূল নেতাকর্মী সময়োচিত সে সিদ্ধান্তকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছে।

ছাত্রলীগের সাথে নেত্রীর আত্মার সম্পর্ক, তাঁর পরম আবেগের জায়গা এই প্রতিষ্ঠান। আজ ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে মমতাময়ী নেত্রীকে সেই আবেগের বাঁধনে আবদ্ধ করে সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তনে তাঁর সায় নিয়েছেন, এই মর্মে খবর ছড়িয়েছে।

কথা হচ্ছে, তারা নেত্রীর ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি না নিয়ে কিসের স্বার্থে, কার ইচ্ছা বাস্তবায়নে সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনের আঁকুতি জানালেন? আর নেত্রী যদি তাদের কথায় পূর্বসিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তারিখ পরিবর্তনের কথা বলে থাকেন, তবে নেত্রীর নির্ধারিত তারিখটি কত? সেই তারিখ তো ৩১ মার্চের আগেও হতে পারে!

বঙ্গবন্ধুর মতো তাঁর আদর্শ ধারণ করা কর্মীরাও গোপন রাজনীতি পছন্দ করেনা। শ্রদ্ধেয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সবিনয় অনুরোধ থাকবে, সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নেত্রীর ম্যাসেজটি লাখোলাখো নেতাকর্মীর কাছে পরিষ্কার করতে। সেটা জানার আমাদের অধিকার সবার আছে। এই ইস্যুতে ধোয়াঁশা সৃষ্টি করে আমাদের আবাগের শেষ ঠিকানাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেননা।

নেত্রীর যেকোনো সিদ্ধান্ত বিনাবাক্যে প্রশ্নাতীতভাবে শিরোধার্য! প্রয়োজনে সারাদেশে লাখো নেতা-কর্মীর পক্ষ থেকে আমরা আপার সাথে দেখা করবো। আপনারা ম্যাসেজ ক্লিয়ার করুন, দয়া করে ছাত্রলীগ পরিবারের মাঝে অন্তঃকলহ সৃষ্টির দ্বার উন্মোচন করবেননা, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় কিন্তু আপনাদেরই নিতে হবে!

উপরের লেখাটি  ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া। 

মার্চে ছাত্রলীগের ২৯তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সম্মেলন যথা সময়ে হবে। তবে মার্চে সম্মেলন হচ্ছে না।

২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সাইফুaর রহমানকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। গণতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। আর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা ছিল।

ছাত্রলীগের একাংশের নেতারা ছাত্রলীগের ২৯তম কাউন্সিল দাবি করলে গত ৬ জানুয়ারি রাজধানীতে ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মার্চে জাতীয় সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। এটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ইচ্ছা-সেটিও জানিয়ে দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদেরর এই নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে জানতে দুই দিন পর গণভবনে যান ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। সেদিন শেখ হাসিনা এই দুই নেতাকে ৩১ মার্চের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশ দেন বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।