ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-03-09 15:03:45 BdST | Updated: 2018-12-16 04:02:00 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজন জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মিশকাত ও সাগর নামে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।

‘৩১ শে মার্চ ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে না, পরবর্তীতে যথাসময়ে সম্মেলন হবে’, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে এমন ঘোষণা আসার একদিন পরেই ছাত্রলীগের সম্মেলনপ্রত্যাশী দুই নেতা এবং ৩ সমর্থককে বিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্মেলন চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক নেতার দেয়া পোস্টে কমেন্ট করায় নিজ দলের তিন নেতাকে মারধর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ। আহতদের মধ্যে একজনকে ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে সূর্যসেন হলের অভ্যন্তরে ও হলের সামনের মল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- সূর্যসেন হলের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মিশকাত হাসান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন এবং স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী সাগর রহমান।

সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক ইমরান হোসেন সাগর, উপ-ক্রিড়া সম্পাদক আসাদ পাঠান, উপ-কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক রাসেল রানা সোহেল এবং সারওয়ারের নেতৃত্বে হল সভাপতি সরওয়ারের অনুসারী ১৫-২০ জন নেতাকর্মী দলীয় তিন নেতাকে মারধর করেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি সূর্য সেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম সরওয়ার সম্মেলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী সাগর রহমান একটি কমেন্ট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন সরওয়ার ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে সূর্য সেন হলে মিশকাত হাসানের কক্ষে (কক্ষ নম্বর- ১৬৯) গেলে কামাল উদ্দিন ও সাগর রহমানের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই কক্ষের সামনে হলটির ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক ইমরান হোসেন সাগরের নেতৃত্বে হল সভাপতি সরওয়ারের অনুসারী ১৫-২০ জন নেতাকর্মী অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে নিজ কক্ষ থেকে বের হয়ে মিশকাত সেখানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। এ সময় তারা বলে রুমে সাগর আছে তাকে বের হতে বলেন। এক পর্যায়ে সাগর রুম থেকে বের হলে কয়েকজন তাকে মারধর শুরু করে। এ সময় মিশকাত ও কামাল তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও চড়াও হয় সরওয়ারের অনুসারীরা। এরপর তাদের তিনজনকে ধরে হলের বাইরে নিয়ে এসে মল চত্বরে মারধর করে। এ সময় ইট দিয়ে আঘাত করলে মাথা ফেটে যায় মিশকাতের। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এক পার্যয়ে হলটির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের উদ্ধার করে মধুর ক্যান্টিনে নিয়ে আসে। ওখান থেকে তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ঢামেকের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে মিশকাত ও সাগর ভর্তি রয়েছে।

আহত মিশকাত বলেন, আমি ২৯তম কাউন্সিলের পক্ষে কথা বলায় এবং লেখালেখি করায় উপরের নির্দেশে আমার ওপর এ হামলা হয়েছে।

মারধরের শিকার এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা তিন বন্ধু মিলে খাওয়া-দাওয়া শেষে সূর্যসেন হল থেকে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় এ হলের ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার আহমেদের অনুসারী ২০-২৫ জন নেতাকর্মী সাগরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাগরকে বাঁচাতে গেলে আমরাও আক্রমণের শিকার হই। সূর্যসেন হল গেট থেকে মারতে মারতে তারা মল চত্বরে নিয়ে আসে। এসময় সাগর ও মিশকাতের মাথায় ইট দিয়ে বাড়ি দেয় হামলাকারীরা। এতে তাদের মাথা ফেটে যায়।

হামলা কেন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: কেন আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে তা জানি না। তবে তারা হামলার সময় শুধু বলছিলো ‘তোরা সম্মেলন চাস! সারওয়ার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলিস! মোটকথা তারা সম্মেলনের বিষয়টিকে কোট করেই মারধর করেছে।

জানতে চাইলে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম সরওয়ার বলেন, মিশকাত আমার ছোট ভাই। যতটুকু শুনেছি ব্যক্তিগত কারণেই নিজেদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে দিচ্ছি। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কেউ দোষী হলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। এ সময় সরওয়ার ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, যারা মারধরে জড়িয়েছে তারা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত। তবে ছাত্রলীগের কেউ যদি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।