কাগজে ছাত্রদলের নেতা ১১০০, দেখা যায় না ১০০


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-04-13 23:31:39 BdST | Updated: 2018-09-20 07:49:09 BdST

বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ৭৩৪ জন। পাশাপাশি সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিতে সদস্য রয়েছে দুই শতাধিক। ঢাকা মহানগরের চারটি ইউনিট কমিটিতে সদস্য রয়েছে (৮১+৮১+০৮+০৮) ১৭৬ জন।  অর্থাৎ কর্মী ছাড়াই রাজধানীতে সংগঠনটির অন্তত এক হাজার ১০০ জন নেতা রয়েছেন। তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন। বিএনপি ও নিজ সংগঠন ঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্রদলের একশ নেতাকর্মীকেও দেখা যায় না।

অবশ্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন সাংগঠনিক কর্মসূচি, আদালতে হাজিরা কিংবা অন্য কোনো কারণে  রাজপথে বের হন তখন ছাত্রদলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে সংগঠনটির দফতর তালাবদ্ধই থাকছে। যদিও ফেসবুকে দেওয়া সেলফি এবং গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হচ্ছে, তারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ছাত্রদলে সবাই নেতা। ফলে এখন কর্মী-সমর্থক খুঁজে পাওয়া যায় না।’

আরেক সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিংবা গুলশানে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে যাদের সঙ্গে দেখা হয়, তারাই বলছেন, ‘আমি অমুক পদে আছি। সামনে সুপার ফাইভে (শীর্ষ পাঁচ) যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি’।’’

আরও কয়েকজন নেতা জানান,  বর্তমান কমিটির আগের জুয়েল-হাবিব কমিটি ছিল ২৯৪ সদস্যের। এর আগে টুকু-আলিম কমিটি ছিল ১৭১ সদস্যের। সেখান থেকে এক দৌড়ে কমিটি দেওয়া হয় ৭৩৪ সদস্যের। ঢাউস কমিটি হলেও মিছিল-মিটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে দেখা মিলে না অধিকাংশেরই। মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও স্থবির প্রায়।

দাবি উঠেছে, ছোট পরিসরে নতুন কমিটির। কারণ হিসেবে সংগঠনের বেশকয়েকজন সম্পাদক ও সহসম্পাদক জানালেন, যারা কোনোদিন রাজপথে থাকেনি তারাই এখন পদ পেতে খুব সক্রিয় হয়ে গেছেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে প্রচার চালাচ্ছেন। ছাত্রদলের অনেক নেতাই এখন নিজেকে দুর্দিনের কাণ্ডারি হিসেবে দাবি করছেন। হয়তো এরাই নেতা বনে যাবেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই বলছেন, বিএনপির ‘ভ্যানগার্ডখ্যাত’ ছাত্রদল কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের প্রতি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও আস্থাশীল নয়। বেড়েই চলেছে দ্বন্দ্ব-কোন্দল। দেখা দিচ্ছে হতাশা ও সংশয়। আর এর নেপথ্যে সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি ও সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন নেতাকর্মীরা।  

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি এবং মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি এবং ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগরকে চারটি ইউনিট (উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম) হিসেবে কেন্দ্রের আওতাধীন নিয়ে এসে ইউনিট গঠন করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটে ৮জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আছে। যদিও তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। শুধু উত্তর-পশ্চিম ইউনিট কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে।

গত সাড়ে তিন বছরে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড হিসাব করলে জাতীয় দিবস ছাড়া নেতাদের কারাবন্দী দিবস, কারামুক্তি দিবস, জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে। কিছু আলোচনা সভা, প্রতিবাদ সভা। আর নিন্দা ও শোক প্রকাশ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে গণমাধ্যমে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রত্যাহারের দাবিতে খানিকটা সোচ্চার থাকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদের অধিকার রক্ষার কর্মসূচিতে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ প্রায় নেই। অতি সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে সংগঠনটি ছিল দোটানায়।

এ ছাড়া কলেজছাত্রী তনু হত্যা, খাদিজার ওপর হামলা, সর্বশেষ রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের টিয়ারশেলে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টি হারানোর ঘটনায়ও ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি দেয়নি। 

২০১৭ সালে ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘উত্তর-উত্তর, দক্ষিণ-দক্ষিণ, এটা কোনও স্লোগান হলো? কী বোঝাতে চাও? ছাত্রদলে এখন আর ছাত্র নাই। একটা স্লোগানও বানাতে পারে না ছাত্রদল?’

ওই সময় তিনি ছাত্রদলকে ছাত্রস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘ছাত্রদলেও পরিবর্তন আনতে হবে। খালি স্লোগান দিলেই চলবে না। কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। শুধু তাই নয়, এখন তো তোমাদের পোস্টার করে দিতে হয়। কিন্তু করে দিলেও পোস্টার দেয়ালে লাগে না।’

২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলাচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমরা কে কী করছো আমি তা জানি। আমি তোমাদের পেছনে গোয়েন্দা রেখেছি। তাই সময় থাকতে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করো, বিছিন্নভাবে ফেসবুকে জানান দেওয়া বন্ধ করো।’

এরপরও সংগঠনটির কাজে গতি আসেনি। তবে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছি। সকলেই প্রায় অবগত, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে যেহেতু সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী (খালেদা জিয়া) এখন মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ, তাই তার মুক্তির আগে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। তিনি যখন ভালো ও উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। কমিটি গঠন করার ক্ষমতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া কারও নেই।’

সংগঠনটির দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র মোতাবেক বলা আছে, প্রতিটি ইউনিট কমিটির সদস্য হবে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে অন্তর্ভূক্তির নির্দেশনা দেওয়ার ফলে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র এখনও অপূর্ণাঙ্গই রয়েছে। তাই সদস্য সংখ্যার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মহানগরের চারটি ইউনিট কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিও কেন্দ্রীয় কমিটির আওতাধীন করা হয়েছে। উভয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি অপূর্ণাঙ্গ তবে প্রত্যেকটির সদস্য সংখ্যা একশ’র বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ছাত্রদলের সাবেক নেতারা আনুগত্য ও টাকার বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠন করে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট কমিটি গঠনের সময় ঘনিয়ে আসলেই সিনিয়র-জুনিয়র, বিবাহিত-অবিবাহিত, আঞ্চলিকতার অজুহাতে ইচ্ছেমতো ক্যাটাগরি বেঁধে আওয়াজ তোলেন। আজ্ঞাবহ কমিটি গঠনে তৎপর হন। তাদের তদবিরে ছাত্রদলে অছাত্র ‘আইবুড়োরাই’ নেতা হচ্ছেন।

ছাত্রদলের কোনো স্থায়ী গঠনতন্ত্র না থাকাই অছাত্র নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন পরিচালিত হয় খসড়া গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে। ওই খসড়া গঠনতন্ত্রের ৬-এর ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘বাংলাদেশের যেকোনো মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্দেশ্য ও আদর্শের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সংগঠনের নিয়ম-কানুন প্রতিপালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারবে।’ ওই অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদেও একই বাঁশির সুর বেজেছে। ফলে ‘অধ্যয়নরত’ শব্দটির সুযোগে কয়েক বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া বয়স্ক নেতারা সান্ধ্যকালীন অথবা প্রফেশনাল কোনো কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজেদের অধ্যয়নরত প্রমাণ করে নেতা বনে যাচ্ছেন। তাই সর্বপ্রথম ‘অধ্যয়নরত’-এর বদলে ‘নিয়মিত’ শব্দটি গঠনতন্ত্রে যুক্ত করতে হবে বলে ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখত ছাত্র সংগঠনগুলো। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ছাত্রদের যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ। তাই ছাত্র নেতৃত্ব দিয়ে এখন শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।’

রিজভী বলেন, ‘সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও আছে। খুব শিগগিরই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’

সরকারের নানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও ছাত্রদলের পক্ষে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না মন্তব্য করে ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রিয়.কমকে বলেন,  ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ছাত্রদের ভূমিকা অগ্রণী ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ছাত্রদের ব্যবহারের কারণে আজ ছাত্র নেতৃত্ব তার ধার হারিয়েছে। এর জন্য বিএনপির দায়ও কম নয়। যার ফলও আজ ভোগ করতে হচ্ছে। তাই ছাত্রদলকে সত্যিকার শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে চাইলে ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার চিন্তাভাবনা বিএনপিকেই করতে হবে।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রিয়.কমকে জানান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি ১০৭টি, যা পূর্বে ছিল ৯১টি। রাজীব আহসান এবং আকরামুল হাসান ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার পর ৪৫টি ইউনিট কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে। ছয়টি নতুন কলেজ ইউিনটকে কেন্দ্রের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে, করা হয়েছে কমিটি গঠন। এ ছাড়া ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, সিলেট মহানগর ও মেহেরপুর জেলা কমিটি নেই। তবে অন্যান্য কমিটিগুলো প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে আছে, যা না থাকার মতোই। সেই কমিটিগুলো কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি বরিশাল বিভাগের ছেলে সভাপতি রাজীব আহসান বরিশাল বিভাগেই কোনো কমিটি গঠন করতে পারেননি।

সংগঠনটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নতুন কমিটি গঠন করা ছাড়া স্থবির ছাত্রদলকে গতিশীল করা যাবে না। নতুন কমিটি সময়ের দাবি। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা সবাই চাই দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হউক এবং সিনিয়র-জুনিয়রের সমন্বয়ে সংগঠনের জন্য নিবেদিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হউক। প্রত্যাশা থাকবে যারা আগামী আন্দোলন এবং নির্বাচনে দলের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে এমন অভিজ্ঞ, পরিণত, রাজনীতিতে পরিপক্ক নেতৃত্ব আসুক। কেননা নেতৃত্ব নির্বাচন ভুল হলে বিএনপিকে এর মাশুল দিতে হবে।’

নেতৃত্ব প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ক নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জিত হবে না। যেমন ছাত্রলীগের অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ক নেতৃত্ব থাকায় সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজমান। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ নেই। বরং শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

তাদের অভিমত, জুনিয়রদের তৈরি না করে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগের মতো একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত নয়।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Whoops, looks like something went wrong.