ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা তিন দিন পর


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-05-12 22:33:11 BdST | Updated: 2018-10-23 14:41:59 BdST

ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার জন্য তিন দিন সময় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই তিন দিনের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন তিনি। তবে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ২৮ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২৯ বছর করা হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শনিবার ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হয়েছে।

সন্ধ্যায় গণভবনে ছাত্রলীগের সম্মেলনে নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে আসা সংগঠনটির নেতাদের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দুপুরেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন। এ সময় নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের বেলায় সর্বোচ্চ ২৯ বছর বয়সীদের বেছে নেওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২৮ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। পরে ২৮ বছর বয়সসীমার কারণে অনেক যোগ্য নেতা বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকেও ওই বয়সসীমা ২৯ বছর করার কথা জানিয়ে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান আরিফুর রহমান লিমন এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার নওশাদ উদ্দিন সুজন ও সাকিব হাসান সুইম উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি ছাড়াই শেষ হলো সম্মেলন: রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রলীগের দু'দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনে শনিবার কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। বিকেল পৌনে ৪টায় এ অধিবেশনে ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সমাপনী বক্তব্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে নতুন কমিটির প্রার্থীদের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির ঘোষণা যে কোনো সময় নেত্রী (শেখ হাসিনা) দিতে পারেন। সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য সংগঠনের সব ইউনিটকে আনন্দ মিছিল করারও নির্দেশ দেন তিনি।

কাউন্সিল অধিবেশনের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনও একই তথ্য দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অতিদ্রুত নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে জানিয়ে দেবেন বলে আশা করছেন তারা। হয়তো দু-একদিন সময় লাগতে পারে এ ঘোষণা আসতে।

কাউন্সিলে ছাত্রলীগ নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, পরিবেশ ও বন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ। সারাদেশের ১১০টি ইউনিট থেকে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস ছাড়াও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সাবেক নেতারাও কাউন্সিলে যোগ দেন।

এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্বপ্রত্যাশী ৩২৩ নেতা আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১১১ জন সভাপতি ও ২১২ জন সাধারণ সম্পাদক পদে আবেদন সংগ্রহ করেন। পরে ৩১৮ প্রার্থী আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। বয়সজনিত ও অন্যান্য কারণে বেশ কিছু আবেদন বাতিল এবং বেশ কিছু প্রত্যাহারের পর সভাপতি পদে ৬৬ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬৯ জন চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে।

দিনভর উচ্ছ্বাস: শনিবার সকাল ১০টায় কাউন্সিল অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও অনেক আগে থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কাউন্সিলস্থল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আসতে শুরু করেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা ঘটে। তারা দিনভর নানা মিছিল ও স্লোগানে গোটা এলাকা মুখর করে রাখেন। বাদ্য-বাজনার তালে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন তারা।

এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের অনেকেই তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন। সমর্থকরাও নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।