ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: এক যুগেও হল ছাড়েনি তারা


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-05-22 04:37:35 BdST | Updated: 2018-06-21 23:49:10 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যসব হলের মতো হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে তীব্র আসন সঙ্কট বিদ্যমান রয়েছে। অছাত্র, বহিরাগতরা হলের অনেকগুলোকক্ষ দখল করে বসবাস করছেন ছাত্রলীগের ছত্রছাঁয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ও হল প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না থাকায় হলটি তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর হলে যে পরিমাণ ছাত্রের আসন বরাদ্দ দেয়া হয়, সেপরিমাণে সিট খালি থাকে না। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ছাত্রলীগ নেতারা কক্ষ দখল করে রাখার কারণে বৈধ ছাত্ররা কক্ষ পাচ্ছেন না। গণরুমে অবর্ণনীয় কষ্টে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে প্রকৃত ছাত্রদের।

মুহসীন হলে অসংখ্য ছাত্রলীগের নেতা বসবাস করছেন একযুগেরও বেশি সময় (১২ বছর) ধরে। ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে হলে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হওয়া মাকসুদ রানা মিঠু (কক্ষ নং ৩৩৭) ও ইমতিয়াজ বাপ্পী বুলবুল (কক্ষ নং ১১১)। দুজনই ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ সভাপতি। ইমতিয়াজ বাপ্পী গতবুধবার হল ছেড়েছেন। ১১ বছর ধরে হলে থাকেন একই কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল-আমিন (কক্ষ নং ৩১৮) সহ-সভাপতি মনির (৫২৫), ছাত্রলীগ নেতা রেদোয়ান (৩২১), ঢাবি ছাত্রলীগের গত কমিটির আগের আগের কমিটির এক নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ সবুজ (কক্ষ নং ৩১৭)।

৩৬১তে সৌরভ নামে একজন থাকেন। তিনি ৮মাস ধরে ব্যাংকে জব করছেন। ৪৪৩ কক্ষটি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রানা নামে একজন দখলে। ৬মাস ধরে তিনি হলে থাকেন না, তার কক্ষটি তালা মারা। এছাড়া মুহসীন হলে অন্য হলের এবং কিছু বহিরাগত থাকেন ছাত্রলীগ নেতাদের আশ্রয়ে। ৩৬২তে রুহুল নামে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য থাকেন। ৩৩৪ নম্বর কক্ষে ড্যাফোডিল বিদ্যালয়ের অভি অন্তু,৪৩৭ নম্বর কক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলাল, ১০১৫ তে সান্ধ্যকালীন কোর্সের দুলাল, ১০২০ এ ঢাকা কলেজের কামাল, ১০২৮ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীফ, ১০১৪ ঢাকা কলেজের ইমরান, ১০০৩ এ আমিরুল ইসলাম, ৪৫৪ নং কক্ষে জিয়া হলের এক ছাত্র থাকেন। শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরাও জানেন, সবথেকে বেশি অছাত্র এবং বহিরাগত এই হলে থাকেন।


বিশ^বিদ্যালয়ের বিধিমতে বিভাগ থেকে হল বরাদ্দ দেয়া হয়। হল প্রশাসনের দায়িত্ব বরাদ্দ পাওয়া ছাত্রকে হলের কক্ষে তোলা। কিন্তু মুহসীন হলের প্রায় চার’শটি কক্ষের একটি কক্ষও হল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেই। হলে নিজেদের ইচ্ছামতো ছাত্র উঠা-নামানো করেন সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্ররা রাজনৈতিক কর্মসূচি করার শর্তে নেতাদের মাধ্যমে হলে উঠেন। ছাত্রলীগ নেতারা যখন কর্মসূচিতে ডাকেন তখনই বের হতে হয় হলে উঠা ছাত্রদের।

দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকার বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সরকার জহির রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী বলেন, অনেক কেন্দ্রীয় নেতা থাকেন। সিনিয়র হওয়ায় আমরা কিছু বলতে পারিনা। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।’

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, এটা হল প্রভোস্টের দায়িত্ব। তাদের বলা আছে।

দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকার বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সরকার জহির রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী বলেন, তারা সিনিয়র হওয়ায় আমরা কিছু বলতে পারি না। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিদায়ী কেন্দ ীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।’

সংবাদটি দৈনিক ইত্তেফাক থেকে নেয়া 

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।