সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা কানহাইয়ার পরাজয় মেনে নেয়া কষ্টের


ঢাকা
Published: 2019-05-25 18:15:51 BdST | Updated: 2019-06-18 14:19:26 BdST

তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দুরন্ত আবেগ। মোদি–‌বিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন জেএনইউ-‌র এই প্রাক্তনী। গোটা দেশ তাকিয়েছিল বিহারের লেনিনগ্রাদ বেগুসরাইয়ের দিকে। ভোটের আবেগ আর অঙ্ক একপথে চলে না। তাই চূড়ান্ত আশা জাগালেও, আপাতত এই স্বপ্নের সমাধি। তরুণ বাম নেতা কানহাইয়ার প্রতি সদয় হল না বিহারের বেগুসরাই।

সব হিসেবে জল ঢেলে প্রায় ৪ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে হার মানলেন কানহাইয়া কুমার, বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিংয়ের কাছে। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই কেন্দ্রটি হয়ে উঠেছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, ‘‌দেশদ্রোহী’‌ অভিযোগে অভিযুক্ত জেএনইউ ছাত্র কানহাইয়া কুমার এই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন। দিল্লিতে জেল থেকে মুক্তি পেয়েই বেগুসরাইতে এসে একই সঙ্গে মোদি বিরোধিতা আর নিজের দল সিপিআইয়ের হয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর হয়ে প্রচার করেছিলেন স্বরা ভাস্কর, শাবানা আজমি, জাভেদ আখতার, প্রকাশ রাজের মতো বলিউড স্টাররা। বিহারে বিজেপি–‌বিরোধী মহাগঠবন্ধন তাকে সমর্থন না করলেও, সিপিআইএমএল লিবারেশন, সিপিএম–‌সহ বাম দলগুলি শুধু সমর্থন জানিয়েছে তাই নয়, কানহাইয়ার হয়ে প্রচারে এসেছেন সীতারাম ইয়েচুরি থেকে শুরু করে সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবু শিকে ছিঁড়ল না। বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ জোটের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি ও আরএলডি–র মহাগঠবন্ধন।

বেগুসরাই কেন্দ্রে গিরিরাজ সিং একাই পেয়েছেন ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৫২২টি ভোট। শতাংশে ৫৬.‌১%। কানহাইয়ার জুটেছে মাত্র ২২% ভোট। তাঁর ভোট ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৩৩। তৃতীয় স্থানে আছেন আরজেডি–র মহম্মদ তানবির হাসান। গতবারও এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপি–‌র কাছে হেরেছিলেন তানবির। এবার তিনি পেয়েছেন ১৬.‌৫% ভোট। বেগুসরাই কেন্দ্রে বিজেপি–র বিরুদ্ধে সিপিআই ও আরজেডি আলাদা আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছিল। সিপিআইয়ের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, বেগুসরাই ছাড়তে নারাজ ছিলেন আরজেডি নেতা তথা লালুপ্রসাদ–পুত্র তেজস্বী যাদব। আসন সমঝোতায় মিলমিশ না হওয়ায় সিপিআইয়ের সঙ্গে জোট ভেস্তে যায়। ভোটের অঙ্ক হিসেব করলে, বেগুসরাই কেন্দ্রে বিজেপি–‌রই জেতার কথা। তার ওপর গিরিরাজ সিংয়ের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে দেয় বিজেপি। তবে ভোটের আগে বেগুসরাই জুড়ে যে ঝড় তুলে দিয়েছিলেন কানহাইয়া কুমার, তাতে কিছুটা হলেও আশা জেগেছিল। বামেদের প্রচারে যুব সম্প্রদায়ের বিশাল অংশগ্রহণ বিরোধী শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রীতিমতো চাঁদা তুলে নির্বাচনী প্রচার করেছেন কানহাইয়া। দেশের প্রতিষ্ঠান–‌বিরোধী মুখগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিলেন। অনেকেই কার্যত ভাবতে শুরু করেছিলেন, কানহাইয়ার জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর কানহাইয়া জিতলে কেবল বিহারই নয়, বরং গোটা দেশের রাজনীতিতেই বদলের হাওয়া লাগতে বাধ্য। কিন্তু এদিন ভোটের ফল প্রকাশ হতেই মুখ থুবড়ে পড়ে সে আশা। তবে বেগুসরাইতে কানহাইয়া কুমার না জিতলেও, এক অনন্য লড়াই দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির করতে পেরেছেন বামপন্থীরা। লাল পতাকা হাতে ওঁরা প্রমাণ করেছেন, বিহারের মতো জাতপাতপ্রিয় ভোটবাজারেও স্রেফ ভাতের লড়াইকে সামনে রেখে প্রচারে জোয়ার আনা যায়।

কানহাইয়ার ভোট এক বোধের জন্ম দিয়ে গেল যে, ধর্ম ও জাতিভেদের ওপরে উঠে আম–‌আদমির রুটিরুজি আর সম্প্রীতির কথা বলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা যায়। শুরু থেকেই ‘‌দেশদ্রোহী’‌র তকমা পিছু নিয়েছিল কানহাইয়ার। প্রমাণাভাবে তাঁকে জেলে আটকে রাখতে পারেনি বিজেপি সরকার। কিন্তু এই ছাত্রনেতার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি পাল্টা বিশ্বাসও দানা বেঁধেছিল?‌ তাই কি কানহাইয়ার জনপ্রিয়তা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল । কানহাইয়ার কথায়, ভোটে পরাজিত তিনি। কিন্তু মানুষের লড়াই, গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই জারি থাকবে। লাল পতাকার নিচে এই বেগুসরাই থেকেই মানুষের রুটিরুজির লড়াই জারি রাখবেন তিনি।‌ ‌---আজকাল

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।