বানর নয়, বরং ঋষিদের থেকেই উৎপত্তি মানুষেরঃ ভারতের শিক্ষামন্ত্রী


ঢাকা
Published: 2019-07-20 00:55:40 BdST | Updated: 2019-08-20 05:39:54 BdST

চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব বিজ্ঞানের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। এবার ভারতের লোকসভায় ডারউইনের বিখ্যাত সেই তত্ত্বকে একপ্রকার অস্বীকার করে বসলেন ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সত্যপাল সিং। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, বানর নয়, বরং ঋষিদের থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মানুষ প্রজাতির। মানুষ ঋষিদের সন্তান—এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার আইনসংক্রান্ত বিল পাসের আলোচনার সময় এমন মন্তব্য করেছেন গত মেয়াদে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শিক্ষামন্ত্রী থাকা সত্যপাল সিং। তাঁর এমন মন্তব্যের পরপরই লোকসভার কয়েকজন সদস্য এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সত্যপাল সিং বলেন, ‘ভারতীয় সংস্কৃতি মানবাধিকারকে গুরুত্ব দেয় না, এমনকি আমাদের সংস্কৃতিতে মানবাধিকারকর্মী ধারণাটিরই কোনো অস্তিত্ব নেই। আমাদের সংস্কৃতি বলে, আমরা ঋষিদের সন্তান। যারা বিশ্বাস করেন আমরা বানর প্রজাতি থেকে এসেছি, তাদের খাটো করার ইচ্ছা নেই আমার। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি অনুযায়ী আমরা ঋষিদেরই সন্তান।’

সত্যপাল সিংয়ের এমন মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদ করেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়া মহুয়া মৈত্র। এর আগে লোকসভায় দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণ দিয়েই মহুয়া আলোচনায় এসেছিলেন। মহুয়ার পাশাপাশি সমালোচনায় শামিল হন আরও কয়েকজন লোকসভা সদস্য।

তবে সমালোচকদের মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সত্যপাল সিং বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মীদের কাজ সম্পর্কে যাঁরা জানেন না, তাঁরাই কেবল আমার বক্তব্যের সমালোচনা করবেন। আমাদের সংস্কৃতি বলে, মানবাধিকারকর্মীর কোনো দরকারই নেই। কারণ সংস্কৃতি আমাদের সৎ ও ভালো মানুষ হওয়ার কথা বলে। আমরা অন্যের থেকে যেমন ব্যবহার চাই, অন্যের সঙ্গেও আমাদের ঠিক তেমন ব্যবহারই করা উচিত। সব মানুষকেই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি তো এটাই শেখায় আমাদের।’

সাবেক এ মন্ত্রী মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী, জাতীয়তাবিরোধী ও ধর্ষক’দের মদদ দেওয়ার অভিযোগও এনেছেন। বিদেশি সংস্থাগুলো মানবাধিকারকর্মীদের অর্থের জোগান দিচ্ছে—এমন কথাও বলেছেন তিনি। অবশ্য এত কিছুর পরও ভারতের লোকসভায় মানবাধিকার সুরক্ষা বিলটি পাস হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।