কাশ্মিরে ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-08-18 23:44:20 BdST | Updated: 2019-11-15 00:10:22 BdST

কারফিউ শিথিল এবং ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিসেবা আংশিকভাবে চালু হওয়ার পরপরই ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দারা। বেশ কিছু জায়গায় তারা ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় কাশ্মীরের বিভিন্ন শহরে কয়েক ডজন বিক্ষোভের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মুখে আবারও টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। উপত্যকাজুড়ে ফের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

শনিবার রাতে রাজধানী শ্রীনগরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসায় ভারত সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিসেবা। জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, উধমপুর, ও রিয়াসি- এই পাঁচটি জেলায় টুজি ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিসেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জম্মুতে নিযুক্ত সরকারি মুখপাত্র রোহিত কানসাল জানান, কারফিউ শিথিলের পর শুধু শনিবারেই ৬ জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে আহতও হয়েছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত-পাকিস্তান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুর বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যু নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কারফিউ জারি করা হয়।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো। অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নিয়েছে ভারত।