বুলবুলে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ, নিহত ৯


World
Published: 2019-11-10 17:15:37 BdST | Updated: 2019-12-14 03:58:02 BdST

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বুলবুলের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। শনিবার রাতে রাজ্যে তাণ্ডব চালিয়ে বুলবুল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বুলবুলের তাণ্ডবে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের তাণ্ডবে মারা গেছেন ৬ জন। এছাড়া কালনা এবং নন্দীগ্রামে মারা গেছে আরও দু'জন। কলকাতায় গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।

শনিবার রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে আঘাত হানে বুলবুল। তার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড করে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।

একইভাবে বুলবুলের বিপদ টের পেয়েছে বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, নোদাখালির মানুষও। গোকনা গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন রেবা বিশ্বাস নামের এক নারী। রাত ৩ টার দিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে শিরিষ গাছ। এতে চাপা পড়ে মারা যান ৪০ বছর বয়সী রেবা।

বুলবুলের দাপটে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায় পশ্চিম মেদিনীপুরে। এতে মাইদুল গাজী নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুল।

পাশাপাশি ঝড়ের দাপটে ঘর চাপা পড়ে মারা যান হিঙ্গলগঞ্জ মালেকানঘুমটির বাসিন্দা সুচিত্রা মন্ডল। নোদাখালিতে বুলবুলের তাণ্ডবে উড়ে যায় ঘরের চাল। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় টিভির সুইচ অন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সুদীপ ভক্ত (১৫)। এছাড়াও গাছ চাপা পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জে।

অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ভেকুটিয়ায় রাতে স্বামী সন্তানকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন সুজাতা দাস। মাঝরাতে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে চাপা পড়ে মারা যান সুজাতা। কালনাতে মারা গেছেন এক কৃষক। রাতে ফসলের ক্ষেত দেখে বাড়ি ফিরছিলেন সমীর মজুমদার। তখন আচমকা ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার। পথেই মারা যান তিনি। বুলবুলের আঘাতে বালিগঞ্জে গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের।