চীন-ভারত সংঘাত: সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!


Dhaka
Published: 2020-06-26 15:07:45 BdST | Updated: 2020-07-05 06:03:01 BdST

ভারত-চীন সংঘাতকে কেন্দ্র করে লাদাখে এখন যুদ্ধপরিস্থতি। এই সংঘাতের মধ্যেই মিসাইলের মুখ চীনের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে জাপান। যে-কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ভারতও।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এমন উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় আমেরিকাও হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেওয়ের কথাতেই সেটা প্রায় পরিষ্কার। চীনের মোকাবিলায় এবার এশিয়ায় আসছে মার্কিন সেনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখে ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও, ভেতরে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এই দেশটিও।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ব্রাসেলস ফোরামের ভার্চুয়াল সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দাদাগিরির কারণেই ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানো হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিতে সেনা সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে কেন? জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন সেনা বেশিদিন এখানে থাকবে না। তাদের অন্যত্র সরানো হচ্ছে। লক্ষ্য যে চীন, তা স্পষ্ট করে দেন পম্পেও।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনাও করে পম্পেও বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পদক্ষেপ শুধু ভারতের জন্য হুমকি নয়। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্সের জন্যেও হুমকির। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা নিয়েও ক্ষুব্ধ আমেরিকা।

পম্পেওর বলেন, 'আমাদের সময়ের এই চ্যালেঞ্জ'- এর মোকাবিলা করতেই মার্কিন সেনাকে জার্মানি থেকে সেরিয়ে আনা হচ্ছে।

এদেক লাদাখে সংঘাতের পর চীনকে বড়সড় জবাব দেয়ার কৌশল আটছে ভারত। তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ভারতের অভ্যন্তরে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হলেও তাতে ভারতেরই ক্ষতি হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

তবে এবার আমদানি পণ্যে শুল্ক বসিয়ে বড় ধাক্কা দিতে চাচ্ছে ভারত। চীন থেকে আমদানি করা কমপক্ষে ৩০০টি পণ্যকে তালিকাভুক্ত করে চড়া আমদানি শুল্ক বসাচ্ছে দেশটি। এরইমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু হয়েছে খবর দিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।

গেল মঙ্গলবার রাত থেকে শুল্ক দফতর দেশের বিভিন্ন বন্দরে আমদানি হওয়া পণ্যের বিপুল সংখ্যক কনসাইনমেন্ট আটকে রেখেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত সরবরাহকৃত পণ্য পরীক্ষা হচ্ছে, ততক্ষণ সেগুলো বন্দর থেকে দেশে ঢুকবে না বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
খবরে বলা হয়েছে, ভারত চীনের যেসব পণ্যে শুল্ক বসাতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স এবং মেডিক্যাল উপকরণ। ইতোমধ্যেই ফার্নিচার, খেলনা এবং ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের উপর নতুন কর বসেছে। এরমধ্যে অর্ধেক পণ্যের উপরে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
আরও পড়ুন: লাদাখে সেই ভয়াল রাতে কী ঘটেছিল?

উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের মধ্যে ২০১৮-১৯ সালে ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারই চীনের ঝুলিতে পড়েছে।
ভারতের রাজস্ব দফতর গত ২৩ জুন চীন থেকে আসা ফ্ল্যাট রোলড স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং জিঙ্কের উপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে।

এছাড়া ভারতের সোলার উপকরণের ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে। তার ওপর ওপরে ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।