যুক্তরাষ্ট্রে কড়া নজরদারীতে চীনা শিক্ষার্থীরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-09-07 19:33:30 BdST | Updated: 2020-10-22 00:16:02 BdST

চীন-মার্কিন ক্রমবর্ধমান বৈরিতার পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় পড়তে যাওয়া লাখ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে এখন চীন থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সন্দেহভাজন প্রযুক্তি পাচারকারী হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরার সময় তাদের ওপর কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে।

চীনা সরকারি বৃত্তি নিয়ে গবেষণা করতে আসা ১৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে চুক্তি গত সপ্তাহে মাঝপথে বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেটা নজিরবিহীন ঘটনা।

ওয়াশিংটনে বিবিসি চীনা সার্ভিসের সংবাদদাতা ঝাও ইন ফেংয়ের কাছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন চীনা ছাত্র কিথ ঝাং (ছদ্মনাম), যিনি সম্প্রতি পড়া শেষ করে দেশে ফিরে গেছেন। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঝাং। তাকে হঠাৎ বোর্ডিং ডেস্কে তলব করা হলে তিনি ভেবেছিলেন রুটিন নিরাপত্তার জন্যেই ডাকা হচ্ছে তাকে। কিন্তু গিয়ে দেখলেন দুজন সশস্ত্র সীমান্ত এজেন্ট পুলিশ তার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি। ঝাং বলেন, 'তারা আমাকে এমনভাবে জেরা শুরু করলো যেন আমি প্রযুক্তি চুরি করতেই আমেরিকায় পড়তে এসেছিলাম।'

চীনের কাছে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে গত ২৮ আগস্ট গুয়ান লেই (২৯) নামের এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, ওই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে এফবিআইয়ের তদন্তকালে তিনি একটি কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ নষ্ট করে ফেলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

শুধু ঝাং কিংবা গুয়ান লেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রায় চার লাখের মত চীনা শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তাদের অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার পারদ যত চড়ছে, তারা মনে করছেন তাদের প্রত্যেককেই এখন সন্দেহভাজন চর হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, তারা এখন প্রতি ১০ ঘণ্টায় এমন অন্তত একটি সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা খুঁজে পাচ্ছেন যার সাথে চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চীনা গবেষকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির সাম্প্রতিক কিছু অভিযোগের তদন্তে সন্দেহের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

অগাস্ট মাসে, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪ বছরের চীনা ভিজিটিং গবেষক হাই ঝাও উকে শিকাগোর বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, বিমানবন্দরে রুটিন নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ওই চীনা গবেষকের ল্যাপটপে কিছু ‘সফটওয়ার কোড' পাওয়া যায় যেটা রাখার বৈধতা তার ছিল না। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, ওই সফটওয়ার কোড গোপন সামরিক বিষয়ক।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি তারা বেশ ক'জন চীনা গবেষককে আটক করেছেন যাদের সাথে চীনা সেনাবাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু সেই পরিচয় তারা ভিসার আবেদনপত্রে চেপে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডেভিড স্টিলওয়েল বলেন, যারা সত্যিকার লেখাপড়া করতে আসেন তাদের জন্য আমেরিকার ‘দরজা এখনো খোলা। কিন্তু আপনি যদি ছাত্রের ছদ্মবেশে আসেন তাহলে তো আমাদেরকে নিজেদের রক্ষা করতেই হবে।'

সূত্র : ইন্ডিয়া ব্লুম, বিবিসি।