বেলমন্ট ইউনিভার্সিটিতে চূড়ান্ত বিতর্ক করলেন ট্রাম্প ও জো বাইডেন


Dhaka
Published: 2020-10-23 09:55:07 BdST | Updated: 2020-11-27 20:36:16 BdST

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৮টা) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিলের বেলমন্ট ইউনিভার্সিটিতে চূড়ান্ত বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। শুরুতেই করোনাভাইরাস নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন দুই প্রার্থী।

জো বাইডেন বলেছেন, দেশের দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর দায়িত্ব যিনি নিতে পারেন না তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। মহামারি মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি আবার লকডাউনের পক্ষে নন। লকডাউন নয় ভাইরাসকে বন্ধ করতে হবে। করোনাভাইরাসকে নিয়েই মার্কিনরা বাঁচতে শিখেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

বিতর্কমঞ্চের শুরুতে দুই প্রার্থীর কেউ কাউকে বাধা দেননি। বিতর্ক ভালোভাবে পরিচালনার জন্য সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েকারের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই প্রার্থীর মধ্যে বিতর্ক চলে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বাইডেন বলেছেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা যে দেশই করবে তাদের মূল্য দিতে হবে। এটা আমেরিকার সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’

জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে জো বাইডেন সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়াসহ অন্য সব দেশের ওপর তিনি যথেষ্ট কঠোর। চীনে ট্রাম্পের ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাইডেন। ট্রাম্পের কর পরিশোধ না করার সমালোচনা করেন বাইডেন। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি লাখ লাখ ডলার কর আগেই পরিশোধ করেছেন। আগের অবস্থানে অনড় থেকে ট্রাম্প বলেন, তিনি আইআরএস অডিট করার পর ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করবেন। তবে তা কবে করবেন তা জানাননি।

ইউক্রেনে বাইডেনের ছেলের ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ ছুড়ে দেন ট্রাম্প। বাইডেন বলেন, এ বিতর্ক ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের নয়। এ বিতর্ক আমেরিকার জনগণের স্বার্থ নিয়ে।

ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। এ নিয়ে সমালোচনা করেন বাইডেন।

জো বাইডেন ওবামা কেয়ারকে শক্তিশালী করে ওষুধের মূল্য কমানো ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করার পরিকল্পনার কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, তিনি আইন করে ওবামা কেয়ারের বিতর্কিত বিষয় বাতিল করতে পেরেছেন। ওবামা কেয়ার বাতিল করে আরেকটি ভালো স্বাস্থ্যসেবা আইন চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প।

৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে এটিই চূড়ান্ত বিতর্ক। নিউইয়র্কে সন্ধ্যার পর থেকেই লোকজনকে টিভির সামনে বসে থাকতে দেখা যায়।

ব্রিকটাউনের ডেমোক্র্যাট সমর্থক স্টিভ লিমানিওন জানান, জো বাইডেনকে কিছুই করতে হবে না। বিতর্কে ট্রাম্প আবারও উত্তেজিত হবেন। আমেরিকার লোকজনকে নিজের মতো তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

জর্জ ওয়াকার নামে রিপাবলিকান দলের এক সমর্থক জানান, শেষ বিতর্কে ভিন্ন এক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখার আশা করছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে জাতীয়ভাবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড রাজ্যের বেশির ভাগ জায়গাতেই পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প।

২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও বাইডেনের প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এই বিতর্কে কথা বলার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়েছে। বিতর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে লজ্জাজনক প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের করোনা সংক্রমণের কারণে দ্বিতীয় বিতর্ক ভার্চ্যুয়াল করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিতর্ক কমিশন। ট্রাম্প তাতে বেঁকে বসেন। দ্বিতীয় বিতর্কটি বাতিল হয়ে যায়।

বিতর্ক সামাল দিতে নিয়ম পাল্টে ফেলা হয়েছে। দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত বিতর্কে বক্তব্যের সময় কোনো প্রার্থী অন্য প্রার্থীকে কথা বলায় বাধা দিলে তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

এনবিসি নিউজের বিখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েকার এ বিতর্ক সঞ্চালনা করেন। বিতর্কের আগেই সঞ্চালক ক্রিস্টেনকে আক্রমণ শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন, হোয়াইট হাউসে এনবিসি নিউজের হয়ে দীর্ঘদিন দিন থেকে কাজ করা সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েকার দলীয় লোক। তাঁর মা-বাবা দুজনই ডেমোক্র্যাট এবং বাইডেনের প্রচার তহবিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়েছেন।

২১ অক্টোবর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিস্টেন ওয়েকারকে ‘ভয়ংকর’ বলেও উল্লেখ করেন।

বিতর্কের কয়েক ঘণ্টা আগে সিকস্টি মিনিটস ধারণ করা অনুষ্ঠান নিজেই প্রকাশ করে টুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ টুইটেও সিবিএস এর বিখ্যাত অনুষ্ঠান সিক্সটি মিনিটসকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। বিতর্কের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকার আরও খারাপ বলে ট্রাম্প টুইট করেন।