রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা এই মুসলিম নারীর


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-01-01 15:41:45 BdST | Updated: 2018-12-19 10:36:11 BdST

রাশিয়ার দাগেস্তান প্রদেশের ৪৬ বছর বয়স্ক নারী আয়না গামজাতোভা (Aina Gamzatova) চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আয়না গামজাতোভা ফেসবুকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা নিশ্চিত করার পর শনিবার দাগেস্তানের রাজধানী মাখাশকালায় তার কয়েক শ’ সমর্থক সমবেত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

আয়না রাশিয়ার সব চেয়ে বড় মুসলিম গণমাধ্যম ইসলাম ডট রু (Islam.ru)-এর প্রধান। এর আওতায় রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকা রয়েছে। তিনি ইসলামের ওপর বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন এবং একটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেন।

আয়নার স্বামী দাগেস্তানের মুফতি আহমদ আদুলায়েভ (Akhmad Abdulaev)।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের নাম দাগেস্তান। দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকাল। দাগেস্তান হচ্ছে রাশিয়ার একটি গোলযোগপূর্ণ প্রদেশ।

আয়না একটি সুফি তরিকার অনুসারী। এ তরিকার গুরু সাঈদ আফেন্দি চিরকাভি ২০১২ সালে এক নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর হামলায় নিহত হন।

আয়নার প্রথম স্বামী সাঈদ মুহাম্মদ আবুবকরভও ১৯৯৮ সালে এক বোমা হামলায় নিহত হন। কিন্তু তার হত্যাকারীকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আয়নার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রাশিয়ার মুসলিম কমিউনিটিতে এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। কেউ কেউ তাকে স্বামীর ছায়ায় থাকার পরামর্শ দিলেও অনেকেই তার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অনেকের মতামত এটা তেমন ফল দেবে না। তবে এর মাধ্যমে রাশিয়ায় মুসলিম নারীদের একটা চিত্র ফুটে উঠবে। তার এ প্রার্থিতার ফলে দারিদ্র্যপীড়িত, জনবহুল, বহু নৃগোষ্ঠীর দাগেস্তান সবার মনোযোগ কাড়তে পারবে। তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা গণমাধ্যমে উঠে আসবে। এটাই অনেক বড় পাওনা।

দাগেস্তানের উপ-ক্রীড়ামন্ত্রী ও বক্সিংয়ে সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন গাইদারবেক ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘যদি তিনি হেরেও যান, তারপরও মানুষ জানতে পারবে হিজাব পরিহিত একজন মুসলিম নারী শুধু একজন মা-ই নন, বরং একজন শিক্ষিত, জ্ঞানী ও সম্মানিত নারী।’

রাশিয়ার ১৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে আড়াই কোটি মুসলিম ভোটের সবগুলো আয়না পেলেও তার জয়লাভের সম্ভাবনা খুবই কম।

তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তিনি দাগেস্তানের একটি বড় অঙ্কের ভোট পাবেন। আর এর মাধ্যমে বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত এ প্রদেশটিতে পুতিনের ভাবমূর্তিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

পুতিন ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তার আগের বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সাংবিধানিক বাঁধার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি পুতিন। সেবার তার ফার্স্ট ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট হন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ২০১২ সালে আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পুতিন।

-আল জাজিরা অবলম্বনে

বিডিবিএস 

 

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।