ইরানে শিক্ষার্থীসহ দেড় হাজার আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার


বিশ্ব টাইমস 
Published: 2018-01-07 18:15:23 BdST | Updated: 2018-06-22 13:40:46 BdST

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীসহ দেড় হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির সংস্কারপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ সাদেগি ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সিকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ দাবি করেছেন। এদিকে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে শনিবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ করেছে প্রবাসী ইরানিরা। এসবের মধ্যই সন্ত্রাসী এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী।

ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশটির ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ জন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৭শ' আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংস্কারপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ সাদেগি। তার দাবি, যেসব শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে তাদের অনেকেই সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত নয়। যুব সমাজের শক্তিতে ভীত হয়েই সরকার নিরীহ শিক্ষার্থীদের আটক করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা। আরেক সংসদ সদস্য ফারিদ মাউসাভি জানিয়েছেন, সতর্কতার জন্যই শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়েছে। তাদের শিগগিরই মুক্তি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে, দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী মাহমুদ আলভি জানিয়েছেন, সন্ত্রাস এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের কঠোর হাতের দমন করবে সরকার। তার এ ঘোষণার পর আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের খবর খুব একটা জানা না গেলেও বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে জার্মানির বার্লিনে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ' প্রবাসী ইরানি। এসময় তারা ইরানের সরকার বিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি সরকার পরিবর্তনের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, 'আন্দোলনকারীরা ধর্মীয় একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটানোর জন্য বিক্ষোভ করছেন। আমি মনে করি এটা তাদের অধিকার। আন্দোলনকারীদের অধিকারের স্বীকৃতির দাবিতে আমি আজকে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছি। ইরানি জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে জার্মান সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।'

আরো এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'বর্তমান সরকার দুর্নীতি পরায়ণ এবং তলাবিহীন ঝুঁড়ি। ইরানের বিরোধীরা গত কয়েক বছর ধরে বিষয়ে বলে আসছে। আমরাও জানি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে যতো অর্থ দেশটিতে যায় সব তাদের পকেটে ঢুকে। ভাগ্য ভালো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ঝুঁড়িতে কোনো তলা নেই এটা সবাই জানে। একারণেই জনগণ রাস্তায়। আমরা এ সরকারকে আর চাই না।'

সরকার বিরোধী বিক্ষোভের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে সরকারপন্থীরাও। ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকা বৈঠক ওয়াশিংটনের মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত; পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের এ মন্তব্যের পর শনিবার চতুর্থদিনের মতো সরকারের পক্ষে সমাবেশ করে সমর্থকরা। এসময় ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পক্ষে স্লোগান দেয় তারা।

সমর্থকদের একজন বলেন, 'আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমাদের বিপ্লবকে আমরা সম্মান করি। কখনো সর্বোচ্চ নেতা পদত্যাগ আমরা দাবি করতে পারি না।'ৱ

গেলো ২৮শেই ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং পুলিশ স্টেশনে হামলা চালালে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। ওই সংঘাতে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ নিহত হয় অন্তত ২২ জন।

এইচজে/ ০৭ জানুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।