বিশ্বের বিচিত্র কিছু লাইব্রেরি


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-07-10 18:43:57 BdST | Updated: 2018-09-24 20:27:05 BdST

‘লাইব্রেরি’ শব্দটা শুনলেই আমাদের কল্পনায় ভেসে ওঠে বিশাল একটি ঘর, যার দু’পাশে শুধু বই আর বই। পিনপতন নিরবতা বজায় রেখে পাঠক ও বইপ্রেমীরা ডুবে আছে বইয়ের রাজ্যে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর কোথাও কোথাও এমন কিছু লাইব্রেরির দেখা মেলে, যা অন্যসব লাইব্রেরির চেয়ে একেবারেই ব্যতিক্রম ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। প্রত্যেকটি দেশে লাইব্রেরির ধরন আলাদা হলেও এর উদ্দেশ্য একটাই। মানুষকে আরো বেশি করে বই পড়তে উৎসাহ দেয়া। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সাধারন লাইব্রেরির পাশাপাশি রয়েছে বিচিত্র সব লাইব্রেরি।

লেভিনস্কি গার্ডেন লাইব্রেরি

 

লেভিনস্কি গার্ডেন লাইব্রেরি: ইজরাইলের তেল আবিবে দেখা পাওয়া যায় এই লাইব্রেরির। লেভিনস্কির উদ্যানে তৈরি এই লাইব্রেরিটি যৌথভাবে বানিয়েছেন আর্টিম এবং ইয়োভ মেইরি আর্কিটেক্ট। এই লাইব্রেরিতে কোনও দেয়াল বা দরজা নেই। এবং বইয়ের তাকগুলিতে লাগানো আছে উজ্জ্বল আলো যাতে রাতেও বই ব্রাউজ করতে কোনো অসুবিধে না হয়। ১৪টি ভাষায় প্রায় ৩,৫০০ বই আছে এখানে।

ওয়েপন অফ মাস ইনস্ট্রাকশন

 

ওয়েপন অফ মাস ইনস্ট্রাকশন: এক সময়ে যুদ্ধে ব্যবহার করা হলেও রাউল লেমেসঅফ সেটিকে বদলে ফেলে করেছেন এই অভিনব লাইব্রেরিটি। আর্জেন্টিনায় ১৯৭৯ সালের একটি ফোর্ড ফ্যালকনকে পরিবর্তিত করা হয়েছে বুক ট্যাঙ্কে। বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এই লাইব্রেরিতে বই ডোনেট করেছেন। পথচারীরা যেতে আসতে এখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারেন।

ওপেন এয়ার লাইব্রেরি

 

ওপেন এয়ার লাইব্রেরি: ২০০৫ সালে কারো (কঅজঙ) নামে একটি দল উদ্যোগ নিয়ে জার্মানির ম্যাজবার্গে এই লাইব্রেরিটি বানিয়েছে। মনোরম পরিবেশে বসে পছন্দমতো বই পড়তে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

বুকইয়ার্ড লাইব্রেরি

 

বুকইয়ার্ড: ইতালিয়ান শিল্পী মাসিমো বার্তোলিনি বেলজিয়ামের ঘেন্টে সেন্ট পিটার্স অ্যাবি ভিনিয়ার্ডে এই লাইব্রেরিটি তৈরি করেছেন। ২০১২ সালে বেলজিয়ান আর্ট ফেস্টিভাল উপলক্ষে এই লাইব্রেরিটি বানানো হয়।

লিটল ফ্রি লাইব্রেরি

 

লিটল ফ্রি লাইব্রেরি: এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর ২০টি দেশে এবং মার্কিন মুলুকের ৪০টি রাজ্যে দেখতে পাওয়া যায় এই লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরি প্রথম বানান হাডসনৃ-এর টোড বোল তার মা-র স্মৃতির উদ্দেশ্যে। টোডের মা এক জন শিক্ষিকা ছিলেন এবং বই পোকা ছিলেন। শুধু তাই না, অন্যকেও বই পড়াতে ভালোবাসতেন। তাই তার মৃত্যুর পরে টোড একটি ওয়াটারপ্রুফ বক্স বানিয়ে তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বই ভরে রেখে দেন বাড়ির বাইরে। সেই থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই লিটল ফ্রি লাইব্রেরির কনসেপ্ট।

ফোন বক্স লাইব্রেরি

 

ফোন বক্স লাইব্রেরি: ব্রিটেনে ২০০৯ সাল থেকে চালু হয়েছে এই অভিনব লাইব্রেরি। বাতিল হয়ে যাওয়া ফোন কিওস্ক দিয়েই তৈরি হয়েছে এই লাইব্রেরি।

পার্ক লাইব্রেরি

 

পার্ক লাইব্রেরি: বোগোতা কোলোম্বিয়ায় সর্ব শিক্ষা অভিযানের একটি অঙ্গ হিসেবে তৈরি হয়েছিল এই লাইব্রেরি। প্রতিটি স্ট্যান্ডে একজন করে স্বেচ্ছা সেবক থাকেন যিনি সপ্তাহে ১২ ঘন্টা কাজ করেন এখানে।

দ্য উনি লাইব্রেরি

 

দ্য উনি: নিউ ইয়র্ক সিটি এবং আলমাতি-তে দেখা মিলবে এই অভিনব লাইব্রেরির। শহরের যে কোনও ফাঁকা জায়গাকে মুহূর্তের মধ্যে অস্থায়ী পাঠাগারে পরিবর্তিত করা হয়। সহজেই যাতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া যায় এই চলমান পাঠাগারকে, সেই চিনাÍভাবনাতেই জন্ম হয়েছিল এই লাইব্রেরির। এর স্রষ্টা বস্টনের স্যাম এবং লেজলি দাভোল।

পাবলিক বুকশেলফ লাইব্রেরি

 

পাবলিক বুকশেলফ: জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে এই লাইব্রেরি। বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তিগত অনুদানে তৈরি হয়েছে বিনামূল্যের এই লাইব্রেরি। এর দেখভাল করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। এক একটি বুক শেল্ফে প্রায় ২০০ বই থাকে। সব বই উল্টে পাল্টে দেখতেই লেগে যায় ৬ সপ্তাহ।

ইকিয়া বুন্দি বিচ আউটডোর বুককেস লাইব্রেরি

 

ইকিয়া বুন্দি বিচ আউটডোর বুককেস: যদিও মাত্র একদিনের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল এই লাইব্রেরি, তবে নিঃসন্দেহে তা ছিল এক অভিনব প্রচেষ্টা। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বুন্দি বিচ-এ ওকঊঅ উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই অস্থায়ী লাইব্রেরি। ৩০টি বুককেস ছিল হাজারও বই। বইপোকারা র্যাক থেকে ইচ্ছে মতো বই তুলে নিতে পারেন, কিন্তু শর্ত একটাই তার পরিবর্তে নিজেদের সংগ্রহ থেকে রেখে যেতে হবে একটি বই। কিংবা একটি স্বর্ণ মুদ্রাও ডোনেট করতে পারেন! এই সব দান গিয়েছিল দ্য অস্ট্রেলিয়ান লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি ফাউন্ডেশন। সূত্র: ইন্টারনেট।

এমএন/ ১১ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।