বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০১৭
UCC-LOGO1

ঢাবিতে জালিয়াতি করা ভর্তিচ্ছু রাবিতে ভর্তি

addmission-RU-1

রাশেদুল ইসলাম রাজন: সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ভর্তি অযোগ্য হওয়া এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগ। উক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ৯ লক্ষ টাকায় ঢাবির ‘ডি’ ইউনিটের র্ভতি পরীক্ষার প্রশ্ন জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ভর্তি বাতিল করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তাকে রাবির আইন বিভাগের ভর্তি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সচেতন মহলে সন্দেহ এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঢাবিতে জালিয়াতির অভিযোগে ভর্তি বাতিল হওয়া উক্ত শিক্ষার্থীর নাম তাজরীন আহমেদ খান মেধা। সে ‘ডি’ ইউনিটর ভর্তি পরীক্ষায় ৫ম স্থান অধিকার করেছিল। অভিযোগ উঠে প্রায় ৯য় লক্ষ টাকায় প্রশ্ন জালিয়াতির মাধ্যমে সে এরূপ ফলাফল অর্জন করে। ঢাবি প্রশাসন জালিয়াতির বিষয়টি গোচরে এনে সাক্ষাতকারের দিন পুনরায় উক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা নেয়। কিন্তু পরীক্ষায় সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাম্বার পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ঢাবি প্রশাসন তার ভর্তি বাতিল করে।

এদিকে ঢাবিতে ভর্তি ফেরত উক্ত শিক্ষার্থী রাবির আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সে এখানেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। এ ধরণের জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন সচেতন মহলের অভিমত উক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

addmission-RU-2

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাজরীন রাবিতে ‘এ’, ‘বি’, ‘ডি’ এবং ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। শুধুমাত্র বি ইউনিট ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর কোনটিতেই সে মেধাতালিকায় স্থান পায়নি। এর মধ্যে ‘ডি’ ইউনিট এবং ‘জি’ ইউনিটের পরীক্ষায় সে ফেল করে, এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় তার মেধাক্রম অনেক পেছনে। ‘বি’ ইউনিটে তার মেধাক্রম ৪৪ তম। সে ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় (রোল:উ৫২০০৪) মাত্র ১৪.০৬ নাম্বার পেয়ে ফেল করেন, ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় (রোল:এ২১৪৭১) ৩৩.২৫ নাম্বার পেয়ে ফেল করেন, ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় (রোল:অ২৭৫৫৪) ৫০ নাম্বার পেয়ে তার মেধাক্রম ২২৯৭ তম, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় (রোল:ই১৯২৪২) ৫৫.৫০ নাম্বার পেয়ে ৪৪ তম স্থান অধিকার করেন। ‘বি’ ইউনিটের সাক্ষাতকার শেষে মেধাতালিকায় তার স্থান হয় ৩৪তম।

addmission-RU

একদিকে ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি অন্যদিকে রাবির দুটি ইউনিটে ফেল এবং আরেকটি ইউনিটে মেধাতালিকায় পেছনে অবস্থান সবমিলিয়ে তার আইন বিভাগে চান্স পাওয়ার বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। যার দরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে বাকা চোখে দেখছেন। কোনরূপ তদন্ত ছাড়া তাজরীনকে ভর্তি করানোয় তারা ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি, রাবির দুটি ইউনিটে ফেল এবং আরেকটি ইউনিটে মেধাতালিকায় পেছনে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই উক্ত শিক্ষার্থীর রাবিতে চান্স পাওয়ার বিষয়টি ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতির বিষয়টি যখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন রাবি প্রশাসনের উচিত ছিল এখানে তার চান্স পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

addmission-RU-3

আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পর কোনরূপ তদন্ত ছাড়াই তাকে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেয়ায় বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিষয়টি সুষ্টু তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হোক।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন সহকারী অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, আমরা এখানে জালিয়াতির কোন প্রমাণ পায়নি। যার ফলে তাকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে কোন অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

কেএস/ ১১ জানুয়ারি ২০১৭