বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭
UCC-LOGO1

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘কুত্তী’ বললেন সুশান্ত পল সুশান্তকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা

ঢাকাঃ কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিস্তার করছে । গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কটাক্ষ করে ও ভুল তথ্য সম্বলিত ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন পাল। 11140316_10153841851348771_2302653108704894455_n

সেখানে তিনি ‘ছাত্রীদের কুত্তী সম্বোধন’ করেছেন। তিনি তার নোটে লিখেছেন, চায়ে বীর্য ঢেলে দিয়ে সেটা জুনিয়র কে খেতে বাধ্য করায়। এখানে মেয়ে নামক কিছু কুত্তীও আছে এরাও এসব কাজ করে।

তিনি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘একটা ছেলে ঢাবি নিয়ে স্বপ্ন দেখা অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়ে তারপর ক্যাম্পাসে এসে দোজখের মধ্যে পড়ে। চান্সপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধিদের নিয়ে তাদের ক্লাসমেটরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হাসি-ঠাট্টা করে।’

হলের পরিবেশ নিয়ে সুশান্ত পাল লেখেন, ‘হলের গেস্ট রুমে গাঁজাখোর তথাকথিত বড় ভাইয়েরা সদ্য চান্সপ্রাপ্ত ছেলেটাকে আন্ডারওয়্যার পড়িয়ে নাচায়, ন্যাংটা করে উঠবস করায়। গেস্ট রুমে মাস্টারবেট করতে বাধ্য করেই ক্ষান্ত হন না এরপর তা ভিডিও ধারণ করে। গাঞ্জাখোর বড় ভাইয়েরা বইপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়। চায়ে বীর্য ঢেলে দিয়ে সেটা জুনিয়র কে খেতে বাধ্য করায়। এখানে মেয়ে নামক কিছু কুত্তীও আছে এরাও এসব কাজ করে।

এসব অবান্তর লেখালেখিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপটি সরগরম হয়ে উঠে।  সুশান্ত পালকে নিন্দা জানিয়ে ও তাকে বিশ্ববিদ্যায়লয় ক্যাম্পাসে আসা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় ওনাকে আইনের আওতায়  এনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তথ্য বিকৃতি, কোন প্রতিষ্ঠানকে অকারণে হেয় করে লেখনি প্রকাশ করা কি বাংলাদেশের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ নয়?’

তাসফিয়ান নাহিদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সুশান্তের কিসের এত গর্ব? তার মত ক্যাডার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বিসিএসে হাজারটা জন্ম দেয়’

আরেক শিক্ষার্থী হাসিব মীর বলেন, ‘আমার দেখা মতে তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জনপ্রিয়তার আড়ালে একজন নোংরা মানুষ। সবাই তার উপরের চেহারাটাই দেখে, কিন্তু ভেতরের টা দেখে না। যারা তার সাথে মিশেছেন তারা হয়ত জানতে পেরেছেন উনি কেমন বাজে প্রকৃতির মকানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তি করা, মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা, ক্যারিয়ার ভাবনার আড়ালে নিজের মার্কেটিং করা তার বাজ অভ্যাস।’

সোহরাব হাসান বলেন, ‘আবাল, দালাল এসব বলে সুশান্ত পালকে নিন্দা জানান। তিনি প্রশ্ন রেখেন বলেন, ‘এই আবাল নাকি বিসিএসে প্রথম হয়েছিল?’


‘পরিচয় গোপন’


তিনি ঢাবি থেকে ই এমবিএ করলেও আইডিতে লিখে রেখেছেন শুধু আইবিএ। নিজেকে ফুল ঢাবি ছাত্র বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়েছেন। তিনি আসলে চুয়েট থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাবির ছাত্ররা কখনই কোন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগ দেয়না। সুশান্ত কখনই হলে থাকেন নি। তিনি হলে না থেকে আন্দাজে এরকম গালগল্প কিভাবে লেখেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলে যে গেস্টরুম কালচার রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষনীয়। এ বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করলেই আসল খবর পাওয়া যাবে। তবে মাঝে মধ্যে গেস্টরুমে একটু সমস্যা  হয় যা নিজেদের পরিবারেও মাঝে মাঝে হয়ে থাকে।


‘শিক্ষার্থীদের দাবি’


ঢাবির ছাত্র ছাত্রীরা বলছেন, একজন বিসিএসে প্রথম হয়ে কেন কাস্টমস নেয় তা আমরা ভাল করেই জানি। তারা দাবি করে বলেন সুশান্ত এর সকল কর্মকাণ্ড দুদকের আওয়াতায় এনে তার দুর্নীতির বিচার করতে হবে।

ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা কতে হবে ঢাবি প্রশাসনকে।


‘ফেসবুকে নারীদের কু-প্রস্তাব’


 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, সুশান্ত ফেসবুকে নারীদের সাথে চ্যাটিং বেশি করে থাকেন। অনেক সময় যাতে যৌনতাও চলে আসে।

মেয়েদেরকে ফেইসবুকে নক করে নাম্বার নিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়া ও মেয়েদের জন্মদিনে বাজে প্রস্তাব দিয়ে উইশ করেন বলে অভিযোগ একাধিক শিক্ষার্থীর। অন্য এক ছাত্রী লিখেছেন, ‘সুশান্ত পাল মেয়েঘেঁষা লোক।’


‘নিজের টাকা দিয়ে প্রোগ্রাম করানো’


দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সঙ্গঠনকে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে প্রোগ্রাম করিয়ে থাকেন। যাতে নিজেকে মুটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে জাহির করা যায়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, একজন কাস্টমস অফিসার এত টাকা কই পান। গত বছর তিনি ঢাবিতে প্রোগ্রাম করাতে চাইলেও শিক্ষার্থীদের বাধায় করতে পারেন নি। তার চারত্রিক স্খলন থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা তাকে ওই কর্মসূচী করতে দেয়নি।

ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা হাসিব মির তার এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
‘শুশান্ত পাল’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকবার প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলো, কিন্তু তাকে করতে দেইনি । আমি ব্যক্তিগত ভাবে এর বিরোধী ছিলাম ।

‘লাস্ট ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব’ সুশান্ত পালকে একটা প্রোগ্রামে নিয়ে আসতে চেয়েছিলো, এ নিয়ে ক্যাম্পাসে পোষ্টারও করা হয়েছিলো ।কিন্তু আমি ক্যারিয়ার ক্লাবের মেম্বারদের বলেছিলাম: আপনারা প্রোগ্রাম করুন, এতে আমাদের সহযোগিতা থাকবে, তবে প্রোগ্রামটিতে শুশান্ত পালকে আনা যাবে না, তাকে বাদ দিয়ে চিন্তা করুন’ ।

‘এই কারণে তখন ক্যাম্পাসের অনেক শুশান্ত পালের ভক্তরা আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপেছিলো । আশাকরি তারা এখন তাদের ভুল বুঝতে পারবে ‘।

‘কারন আমার দেখা তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জনপ্রিয়তার আড়ালে একজন নোংরা মানুষ । সবাই তারর উপরের চেহারাটাই দেখে, কিন্তু ভিতরের টা দেখে না । যারা তার সাথে মিশছেন তারা হয়ত জানতে পারেন বিষয়টি ‘।

‘তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তি করা, মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা, ক্যারিয়ার ভাবনার আড়ালে নিজের মার্কেটিং করা কোন ব্যক্তি ঢাবিতে এসে নিজেকে জাহির করুক আমার মনে হয় কোন ঢাবির ছাত্রই তা মেনে নিবে না, আর আমিও মেনে নেই নি ‘।

‘আশাকরি এখন সবাই শুশান্ত পালকে ভালবাসার আগে একটু হলেও ভাববে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ‘।

‘বক্তব্য নকল’

তিনি বিদেশী বিভিন্ন মুটিভশনাল স্পিকারদের বক্তব্য নকল করে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী ।

এসএমএল / সম্পাদিত