বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭
UCC-LOGO1

ভুলে ভরা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম! বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ভুল বানানে লেখা হয়েছে

পবিঃ ভুলে ভরা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। জানা গেছে ভর্তি ফরমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ভুল বানানে লেখা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে হৈচৈ।

15873117_1333853930022529_8964843147776071996_nসোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তি ফরম সংগ্রহের পর সেখানে ইংরেজি সায়েন্স ও ভার্সিটি বানান ভুল দেখে চমকে যান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি ফরমে চোখ বুলিয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা যেখানে ইংরেজিতে ভার্সিটি ও সায়েন্স বানানই জানেন না, তারা কীভাবে এতো বড় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো বড় ধরনের ভুল হতে পারে সেখানে পড়াশুনার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক শাখার প্রধান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাওহীদা খানম জানান, এটি প্রিন্টিং মিসটেক মাত্র। আমরা প্রেসে দিয়েছি তারা এ ভুলটি করেছিল।

ভুল ফরম শিক্ষার্থীদের কেন দেওয়া হলো এবং এই ফরমে কেন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পারিনি যে এতো বড় ভুল হয়েছে প্রিন্টিংয়ে। যখনই দেখেছি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ভিসি ও প্রক্টরকে জানিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছি। পরে মঙ্গলবার থেকে যথারীতি নতুন ফরমে ভর্তি করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই কাজের সঙ্গে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একজন সেকশন অফিসার এই কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি পাবনা শহরের ফটোস্ট্যাটের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

ক্ষমতার দাপটে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। কয়েক বছর পর আপগ্রেডেশন নিয়ে সেকশন অফিসার হন। তার শিক্ষা জীবনের সর্বত্রই তৃতীয় শ্রেণি। মূলত সরকারি যেকোন প্রথম শ্রেণির চাকরিতে তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আউয়াল কবির জয় জানান, এটা মূলত অ্যাকাডেমিক শাখার কাজ ছিল, তারা এই ভুলটি করেছেন। নিজেদের প্রেস না থাকায় এ ভুলটি হয়েছে।

একাডেমিক শাখার প্রধান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাওহীদা খানম বলেন, এটা প্রিন্টিং মিসটেক মাত্র। আমরা প্রেসে দিয়েছি প্রেস ভুল করে ছাপিয়ে দিয়েছে।

ভুল ফরমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কেন নেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পারিনি যে এতো বড় ভুল হয়েছে প্রিন্টিংয়ে। যখনই দেখেছি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপাচার্য ও প্রক্টরকে জানানো হয়েছে এবং ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মেধা তালিকা অনুসারে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

এমএসএল