রবিবার, মার্চ ২৬, ২০১৭
UCC-LOGO1

রুয়েটে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সিদ্ধান্ত!

রাবিঃ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি পরীক্ষায় ন্যুণতম নম্বর পাননি এমন শিক্ষার্থীদের ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে এবার রুয়েটে প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ করে দেয়। এর মধ্যে ভর্তি কমিটির নির্ধারিত ন্যূণতম ৪০ পার্সেন্ট নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয় ২হাজার ৪৯৮ ভর্তিচ্ছু।

পরে মেধা তালিকা অনুযায়ী ২ হাজার ৪৯৮জনকে ভর্তির জন্য ডাকা হয়। এদের সবাইকে ডাকা হলেও শেষ পর্যন্ত ২২৮ আসন ফাঁকা রয়েছে রুয়েটে। এছাড়া ৩ টি বিভাগে কোন শিক্ষার্থীই ভর্তি হয়নি। ১৪ টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ৪টি বিভাগের সব আসন পূর্ণ হয়েছে। এ অবস্থায় রুয়েটে প্রথম বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে বিপাকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এনিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে তোলপাড় শুরু হয়। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় রুয়েটে এবার ন্যূণতম পাস নম্বর কমিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে কত নম্বরের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী তাদের ডাকা হবে। সে অনুযায়ী ২২৮টি সিট পূরণ করা হবে। তবে এর জন্য কত পর্যন্ত শিক্ষার্থী ডাকা হবে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সূত্র জানিয়েছে পর্যায়ক্রমে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকেই ডাকা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ওই শিক্ষার্থীদের কবে থেকে ডাকা হবে সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ভর্তি কমিটি দুয়েকদিনের মধ্যেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

ভর্তি কমিটি সূত্র জানায়, ৩০ আগস্ট ২০১৬ তারিখে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৪টি বিভাগের মোট ৮৭৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন আহবান করা হয়। এর মধ্যে ৫টি আসন ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী কোটাধারীদের জন্য সংরক্ষিত। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারীদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফল অনুযায়ী ৬ হাজার জন প্রার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। আবেদন জমা পড়ে প্রায় ১৩ হাজার ১০০। আবেদন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৬ অক্টোবর যোগ্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর তালিকা দেয়া হয়। ২৬ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত এবং ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশ করা হয়। উত্তীর্ণ ২ হাজার ৪৯৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১ ও ২ ডিসেম্বর মেধা তালিকা হতে ভর্তি শুরু হয়। তবে মেধা তালিকায় প্রথম দিকে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশ ভর্তি হয়নি। পরে আরও চার দফা মেধা তালিক প্রকাশ করেও সবকটি আসন পূরণ সম্ভব হয়নি।

সবশেষ ২২ ডিসেম্বর ২৬১টি শূণ্য আসনে ভর্তির জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৩৮০ থেকে ২৪৯৮ মেধাক্রম স্থান পাওয়াদের ভর্তির জন্য ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে শেষ ধাপে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৩ জন। ফলে ২২৮টি আসন শূণ্য রেখে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়। মাত্র চারটি বিভাগে সব আসন পূরণ হয়েছে। ওই বিভাগগুলো হল- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ।

অন্যদিকে তিনটি বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। ওই বিভাগগুলোতে ৩০টি করে ৯০টি আসন পুরোপুরি শূূণ্য রয়েছে। বিভাগগুলো হল- গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স বিভাগ। বাকি ৭টি বিভাগে ১৩৮টি আসন শূণ্য রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সোবহান বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি। ফলে এখানে দেশের সকল প্রান্তের ভর্তিচ্ছুরা আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু রুয়েটসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর তারা সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে যেকোনো একটি বেছে নিয়েছে। এতে ভতিচ্ছু সংকট দেখা দিয়েছে।

এমএসএল