বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০১৭
UCC-LOGO1

কুমিল্লায় তীব্র বিক্ষোভ

kumilla

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী-নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর ৫দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকারী শনাক্ত বা গ্রেফতার না হওয়ায় মানুষের ক্ষোভের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকায় তনু হত্যার বিচার দাবিতে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে বিকাল ৪টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী নগরীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। সমাবেশে ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, সেন্টার ফর হিউম্যান এসিস্টেনস ফাউন্ডেশন, অবকাশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, সকল রোটার্যাক্ট ক্লাব (কুমিল্লা জোন), রাজপথের প্রতিবাদী কণ্ঠ ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করে। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, শুক্রবার বিকালে তাঁর কার্যালয়ে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিবি’র প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আইন-শৃংখলা বিষয়ক বিশেষ কোর কমিটির সভা হয়েছে। ওই সভায় তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মামলার অগ্রগতিসহ আসামিদের গ্রেফতারে করণীয় ও পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের জানান, জেলা পুলিশের তিনজন পদস্থ কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩ দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল ও বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সহসা এর রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন সেনানিবাস এলাকার কালা পানির ট্যাংকির কালভার্টের পাশ থেকে গত ২০ মার্চ রাতে কলেজছাত্রী ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে নিহত তনুর পিতা বাদী হয়ে পরদিন সোমবার বিকালে কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তনু হত্যা ঘটনার পর পরই হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা সার্ভে ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। জেলার চান্দিনা, বুড়িচং, দেবিদ্বারসহ বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও পালন করা হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও কুমিল্লা সার্ভে ইন্সটিটিউটের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং বেলা ১১টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে সমবেত হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তনুর হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, রেল লাইনসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, থানা ঘেরাওসহ আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তনুর পরিবারকে নগদ টাকা প্রদান ও খাস জমি দেয়ার আশ্বাস

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনসুর উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী মির্জাপুর গ্রামে নিহত তনুর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা বাবদ ২০ হাজার টাকা তার পিতার হাতে তুলে দেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তারা পরিবারটিকে খাস জমি প্রদানেরও আশ্বাস দেন ।

তনুর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিষ্ণুপুর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ মির্জাপুর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।