ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ফল স্থগিত


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-10-20 21:12:57 BdST | Updated: 2019-11-17 22:15:26 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক' ইউনিটের অধীন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২০ অক্টোবর) রাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন 'ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী।

তবে সিদ্ধান্তটি এখনো বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফলাফলে অসংগতির অভিযোগ ভর্তিচ্ছুদের

রোববার রাত সাড়ে ৮টার সময় অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, এখনো কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, যে কী কারণে, কেন ফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে যাচাই হলে আরও কিছু শিক্ষার্থী পাশ করতে পারে। ভুল সংশোধন হলে কারও মেধাক্রম উপরে এলে আসবে। তার ন্যায্যটা সে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোগ্রামের কারণে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে প্রোগ্রাম সংশোধন করলে সবার ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবছর ‘ক’ ইউনিটে সমন্বিতভাবে পাসের হার মোট পরীক্ষার্থীর ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ভর্তি পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে পাস করেছেন ২৫ হাজার ৯২৭ জন পরীক্ষার্থী। আর নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত অংশে সমন্বিতভাবে পাশ করেছেন ১১ হাজার দুইশত সাতজন জন পরীক্ষার্থী।

এবছর 'ক' ইউনিটের ১ হাজার ৭৯৫ টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল ৮৮ হাজার নয়শত ৯৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৮৫ হাজার আটশত ৭৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফলে অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগ তুলেছেন অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক। এজন্য ফলাফল বাতিল করে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে জানা যায়, 'ক' ইউনিটের গণিত অংশের ফলাফলে অনেক পরীক্ষার্থীর ফলাফল ভুল হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, গণিত অংশের ফলাফল উল্টো দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অনেক শিক্ষার্থীর গণিত অংশে ১০টি প্রশ্নের উত্তর সঠিক ও তিনটি প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে বলে তারা ভর্তি পরীক্ষার পর মিলিয়ে দেখেছিলেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, বিষয়টি পুর উল্টো। অর্থাৎ তিনটি সঠিক ও ১০টি ভুল দেখাচ্ছে। আবার অনেকে অন্য সব বিষয়ে ভালো নম্বর পেলেও গণিত অংশে ১৫টি ভুল উত্তর দেখাচ্ছে।

একরকম অনেক শিক্ষার্থীই একই অভিযোগ তুলেছেন। তারা অভিযোগ করছেন, সবার ক্ষেত্রেই গণিত অংশের ফলাফল উল্টো হয়েছে। এটা ফলাফল তৈরির ভুল। ভুল উত্তরের সংখ্যার জায়গায় সঠিক উত্তরের সংখ্যা এবং সঠিক উত্তরের সংখ্যার জায়গায় ভুল উত্তরের সংখ্যা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, খাতা পূনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকলেও খাতা পূনর্মূল্যায়ন নয় পুরো ফলাফল বাতিল করে নতুন করে সকল খাতা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন অনেক পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। তাদের দাবি, গণিত অংশে ভুলের বদলে সঠিক এবং সঠিকের বদলে ভুল উত্তর এসেছে। এর ফলে যে শিক্ষার্থীর ১০টি উত্তর ভুল এবং পাঁচটি সঠিক হয়েছে কিন্তু তার ফল এসেছে ১০টি সঠিক এবং পাঁচটি ভুল। স্বাভাবিকভাবেই সে খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করবে না। ফলে অনেক অযোগ্য পরীক্ষার্থী যারা গণিত অংশে অকৃতকার্য হতো তারাও উল্টো ফলাফলের জন্য মেধা তালিকায় অনেক এগিয়ে গেছে।

তাই পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন নয়, ফলাফল বাতিল করে নতুন করে সকল পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছেন অনেক পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক।