বৃটেনের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে বাংলাদেশি অহনা


Dhaka
Published: 2019-10-27 19:42:35 BdST | Updated: 2019-11-14 13:32:23 BdST

বৃটেনের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ড, ব্রিস্টল-এর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশি অহর্নিশ অহনা সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ছাত্রী কল্যাণ কর্মকর্তা পদে বিজয়ী হয়েছেন।

অহর্নিশ অহনা প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলেন। গতকাল এ নির্বাচনে তিনি একই সঙ্গে বৃটেনের সকল ছাত্র সংসদদের নিয়ে গঠিত বৃটিশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ফলে এখন তিনি বৃটেনের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ছয় শত ছাত্র সংসদের কনফেডারেশন এবং ৭০ লক্ষ ছাত্রের প্রতিনিধিত্ব করা এই ছাত্র সংসদের কাজ হচ্ছে ছাত্র কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত করে তোলা। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নারী কল্যাণ সদস্য হিসেবে অহনার কাজ হবে- শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের জন্য উপযুক্ত নীতিমালা তৈরি করা, যা সমগ্র বৃটেনে মেনে চলা হবে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে।

নির্বাচন দুটিতে তার স্লোগান ছিল- “The Future is Feminist”। এই দুই নির্বাচনের আগে গত বছর অহনা ব্রিস্টলে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে অহনা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন।

আইনের ছাত্র অহনা জন্মের পর থেকেই জ্ঞান পিপাসু। মাত্র দুই বছর বয়সে পড়তে শেখেন। মজার ব্যাপার ছিল যে, অ আ ক খ শেখার আগেই দেখে দেখে পড়তে পারতেন অহনা। খুব কম বয়স থেকেই কিভাবে পড়তে হয়, পড়ার গভীরে যেতে হয়- তা শিখে ফেলেন তিনি। ফলে খুব কম সময়ে অনেক পড়ার সক্ষমতা লাভ করেন তিনি। এমনকি কোন বয়সে অহনা কি পড়বেন তার একটা পরিকল্পনা করা ছিল। সে পরিকল্পনা মাফিক তাকে যোগান দেয়া হত শিশু, কিশোরদের বই।

ক্লাস ফোর/ফাইভে পড়ার সময়েই একদিনে জাফর ইকবাল বা সত্যজিৎ রায়ের ২০০/৩০০ পাতার বই শেষ করে ফেলতেন অহনা। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই শিশু-কিশোর সাহিত্যের দেশি এবং অনেক বিদেশি ধ্রুপদী এবং বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী অংশ আয়ত্বে চলে আসে তার। বিশ্ব সাহিত্য চর্চাও শুরু হয় তখন থেকেই।

ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী অহনা স্কুলের বিজ্ঞান মেলা, বিতর্ক, বক্তৃতা, ছবি তোলাসহ নানা কাজে যুক্ত থাকতেন। সিক্স/সেভেনে পড়ার সময়েই অহনা যোগ দেন চিল্ড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটিতে। সেখান থেকে পান সাংগঠন করার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। সেখানেই সংস্পর্শ পান সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক ও শিক্ষক জাফর ইকবাল আর বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলামের। শুধু ভাল ভাল চলচ্চিত্র দেখাই নয়, তার আয়োজন, অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা, এমনকি বিচারকের দ্বায়িত্বও পালন করেন অহনা।

একই সঙ্গে চলে প্রথম আলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোর আলোর কর্মকাণ্ড। হয়ে ওঠেন লেখক আর খুদে সাংবাদিক। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন অনেক বড় মানুষের - তাদের মধ্যে অন্যতম শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার আর নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ক্লাস সিক্সে পড়াকালীন সময়ে নাসার আমন্ত্রণে এবং ভিকারুন্নেসা স্কুলের মনোনয়নে অহনা ঘুরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রে। সেখানে তিনি ভর শূন্য হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

আরেকটু বড় হয়ে অহনা জাতিসংঘের বিভিন্ন পরিষদের আদলে সৃষ্ট আলোচনা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা যা Model United Nations বা MUN-নামে পরিচিত, তাতে যোগ দিলে তার জানা শোনার এবং কর্মকাণ্ডের পরিধিটা আরও অনেক বড় হয়ে যায়। এবার তিনি শুধু স্কুল-কলেজই নয়, বিশ্ববদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রদের সঙ্গেও মেলামেশার সুযোগ পান। চলমান আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর উপর আয়োজিত এসব আলোচনা এবং বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য তাকে পড়তে হয়েছে অনেক। জানতে হয়েছে জাতিসংঘের নিয়ম-কানুন, আচার-বিধি। বুঝতে হয়েছে বিভিন্ন দেশের কূটনীতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের হাল হকিকত।

ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল পুরোটা শেষ করা হয়নি অহনার। ক্লাস এইটে থাকতে সে মাত্র কয়েক মাসের প্রস্তুতিতে ও-লেভেল পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে ফেলে। ওর জীবন এগিয়ে যায় তিন বছর। পরের বছরেই এ-লেভেল শেষ করেন তিনি।